ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার | গাজীপুর

0
408

ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার

আহসান উল্লাহ মাস্টার, তিনিএকজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, রাজনীতিবিদ, শ্রমিক নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুন, ১৯৯৬ এবং আক্টোবর ১, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অস্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন।

আহসান উল্লাহ মাস্টার
ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার

জন্ম ও পরিবারঃ

১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর, তৎকালীন গাজীপুর জেলার পুবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন আহসানউল্লাহ।মাতা বেগম রোসমেতুন্নেসা ও বাবা পীর সাহেব শাহ সূফি আবদুল কাদের পাঠান। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের বড় ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি ও ছোট ছেলে জাবিদ আহসান সোহেল (১২ই জুলাই ২০১৩ ইং সনে ৩৩ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন)।

শিক্ষা ও কর্মজীবনঃ

আহসান উল্লাহ মাষ্টার এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের হায়দরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষাজীবন শেষ করে টঙ্গী হাইস্কুলে ভর্তি হন তিনি। আহসানউল্লাহ ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর আহসানউল্লাহ টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি ওই স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক (১৯৭৭-১৯৮৪) ও প্রধান শিক্ষকের (১৯৮৪-২০০৪) দায়িত্ব আমৃত্যু যোগ্যতার সঙ্গে পালন করেন। আহসানউল্লাহ মাস্টার টঙ্গী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনঃ

১৯৬২ এ হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন এর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজনীতির লড়াকু সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠতে থাকে। তিনি পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রাজনীতি চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬৮ সালে তথাকথিত আগরতলা মামলায় বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত করে।

ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ করার নিমিত্তে টঙ্গী-জয়দেবপুরের জন্য যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে ‘মুজিব তহবিল’-এর জন্য প্রতিটি কুপন ১০ পয়সা করে বিক্রয় করেন। ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ এর এগার দফার আন্দোলনে সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি । ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের ক্যান্টনমেন্টের বাঙালী সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে ঢাকা থেকে আসা পাকিস্তানী বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়ার জন্য জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ডাক দেন বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করার। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্যাতিত হন। আহত অবস্থায় আহসান উল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত হয়েছিলেন।

ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পুবাইল, টঙ্গী, ছয়দানাসহ বিভিন্ন জায়গায় গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ – করেছিলেন।১৯৮৩ এবং ১৯৮৮ সালে তিনি পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ,সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) চেয়ারম্যান ছিলেন।ছিলেন। শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি ১৯৯৬ সালে শ্রমিকদের জন্য ৯টি বস্ত্রকল নামমাত্র মূল্যে সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি ১৯৮৩ সাল, ১৯৮৪ সাল, ১৯৮৭ সাল, ১৯৮৮ সাল ও ১৯৯০ সাল, ১৯৯৫ সাল, ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পটভূমিতে শ্রমজীবী নেতা হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা গর্ব করার মতো। তিনি শিক্ষকদের নেতা ছিলেন। টঙ্গীর শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সবার প্রিয়ভাজন হয়েছেন। কিন্তু আমাদের ট্র্যাজেডি হচ্ছে যে স্কুলে তিনি প্রধান শিক্ষক, সেই স্কুলের বিজ্ঞান ভবনের সামনে ২০০৪ সালের ৭ মে কুচক্রীমহল গুলি করে হত্যা করে তাঁকে। ঐ প্রিয় শিক্ষকের গড়া স্কুল রক্তাক্ত হলো তাঁর নিজের রক্ত দিয়ে।হে মহান নেতা, তোমায় শ্রদ্ধা জানাই ।মহান রাব্বুল আলামিন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক সেই প্রার্থনা আমাদের সকলের ।

তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া & Google