স্বাস্থ্য এবং ফিটনেসস্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনাভাইরাস: চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস!

চীনে নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত শনি ও রবিবারে তিন গুন বেড়ে গেছে। ভাইরাসটি এখন উহান থেকে অন্যান্য বড় বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এক কোটিরও বেশি মানুষের শহর উহানে নতুন করে ১৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। রাজধানী বেইজিং-এ আক্রান্ত হয়েছে আরো দুজন এবং শেনঝেনে এখনও পর্যন্ত একজন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। এর মধ্যে তিনজন মারাও গেছেন।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চাইতেও অনেক বেশি। তাদের ধারণা প্রায় ১,৭০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

ভাইরাসটির নাম করোনাভাইরাস।

লোকজন এই ভাইরাসে এমন এক সময়ে আক্রান্ত হচ্ছে যখন চীনে নতুন বছরে উদযাপনের জন্যে লাখ লাখ মানুষ ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বছরের এই সময়ে তারা এক সপ্তাহের মতো ছুটি কাটায় যখন তারা নিজেদের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের কাছে বেড়াতে যায়। একারণে এই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চীনে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ভাইরাসটি প্রতিরোধ-যোগ্য এবং একে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব।

কর্মকর্তারা বলছেন, যারাই উহান শহর ছেড়ে অন্যান্য শহরে যাবে তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হবে।

বর্তমানে এই ভাইরাস চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়েছে এবং ছড়াচ্ছে….

১. পশু থেকে মানুষের মধ্যে কিভাবে ছড়িয়েছে?
– সাধারণত মানুষের মধ্যে ছড়ায় না
– উহান ভাইরাস নিজেদের পরিবর্তন (mutation) করে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে
– খাবারের মাধ্যমে চীনের উহান স্থান থেকে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে

২. মানুষ থেকে মানুষে কিভাবে ছড়ায়?
– উহান ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি-কাশির মাধ্যমে
– কোন বস্তুতে ভাইরাস লেগে থাকলে সেখান থেকে হাতের মাধ্যমে মানুষের মুখ, নাক এবং চোখের সংস্পর্শে এসে দেহে প্রবেশ করে…

৩. আক্রান্ত হলে লক্ষনগুলি কি কি?
– সর্দি-কাশি হবে
– নিউমোনিয়া হবে
– শ্বাস কষ্ট হবে এবং মৃত্যুও হতে পারে

৪. চিকিৎসা
– ভাইরাস দমনে কোন ঔষধ নেই
– লক্ষন দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে
– ভাইরাসের জন্য দেহে অন্য কোন সমস্যা হলে তার চিকিৎসা ডাক্তার করবেন

৫. প্রতিরোধ
– ভাইরাস প্রবেশ প্রতিরোধে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা
– মুখ, নাক, চোখ- হাত দিয়ে স্পর্শ করার আগে সাবান দিয়ে ধৌত করা

৬. অন্যান্য সতর্কতা
– চীনের আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমন না করা
– নিজের সর্দি-কাশি হলে মাস্ক ব্যবহার করা
– সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা
– বেশী লোক সমাগমের স্থান পরিত্যাগ করা
– অসুস্থ বোধ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া

কখন থেকে শুরু
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গত ডিসেম্বর মাসে উহানে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছিলেন।

তারা বলছেন, এটি করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতি।

এই ভাইরাসের ফলে লোকজন নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে ভাইরাসের এই ধরনটি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায় নি।

ধারণা করা হয় যে একটি বাজার থেকে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে কিন্তু এটি ঠিক কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা এখনও সেটা নিশ্চিত করতে পারেন নি।

চীনের বাইরে আরো তিনটি দেশেও এই ভাইরাসটি পাওয়া গেছে। দেশগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং জাপান।

নতুন এই ভাইরাসের প্রকোপ সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সার্স ভাইরাসও এক ধরনের করোনাভাইরাস।

২০০০ সহস্রাব্দের শুরুর দিকে সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৭৪ জন নিহত হয়ে যাচ্ছে। মূলত এশিয়ারই বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।

নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এর সাথে সার্স ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

Facebook Comments
Tags

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!
Close
Close