গাজীপুরের বেলাই বিল – ঢাকার অদূরেই প্রকৃতির সৌন্দর্যে হারাবেন যেখানে!

0
80

গাজীপুরের বেলাই বিল

গাজীপুরের বেলাই বিল প্রকৃতির স্নিগ্ধ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাওর-বাওর, বিলের তুলনা হয়না। বিল বা হাওড়ের কথা বললেই চোখে ভেসে আসে সিলেট আর উত্তরাঞ্চলের কথা। টাঙ্গুয়ার হাওর,হাকালুকি হাওর, চলন বিল আরও কত কত নাম। কিন্তু ঢাকার কাছেই রয়েছে এমন বিল। বিলটির নাম বেলাই বিল। একদিনের জন্য ঢাকার কাছে কোথাও বেড়াতে যাবার জন্য গাজীপুরের বেলাই বিল চমৎকার এক গন্তব্যের নাম। দেরি না করে এক ছুটির দিনেই ঘুরে আসুন বেলাই বিল।

গাজীপুরের-বেলাই-বিল
গাজীপুরের বেলাই বিল

গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের কানাইয়া এলাকায় বিলটি অবস্থিত। চেলাই নদীর সাথেই বেলাই বিল। একই সাথে একটি নদী আর বিলের সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গা সচরাচর দেখা যায় না। ঢাকার কাছে উন্নত ভূমির যেসব বিল রয়েছে এর মধ্যে বেলাই বিল রূপ-সৌন্দর্যে অনন্য। বিশাল এই বিলটির কোনো না কোনো স্থানে প্রায় সারা বছরই পানি থাকে। তবে বর্ষায় এর রূপ বেড়ে যায় বহুগুণ।

বর্তমানে বিলটি আট বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত হলেও একসময় এটি আরও বড় ছিল। বাড়িয়া, ব্রাহ্মণগাঁও, বক্তারপুর ও বামচিনি মৌজা গ্রামঘেরা বেলাই বিল। ৪০০ বছর আগের ইতিহাসে বেলাই বিলে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব ছিল না। চেলাই নদীর কারণেই বিলটি স্রোতস্বিনী রূপ নেয়। কিংবদন্তি আছে, ভাওয়ালের সেই সময়ের ভূস্বামী ঘটেশ্বর ঘোষ ৮০টি খাল কেটে চেলাই নদীর জল নিঃশেষ করে ফেলেন। তার পরই এটি প্রকাণ্ড বিলে পরিণত বর্ষা মৌসুমে বিলের চারপাশে গ্রামের মানুষ ডাঙ্গি খনন করে। এখানে ধরা হয় মাছ। আর শুষ্ক মৌসুমে বিলটিতে ধান চাষ হয়।

গাজীপুরের বেলাই বিল
গাজীপুরের বেলাই বিল

এখানে ইঞ্জিনচালিত আর ডিঙ্গি নৌকা দুটোই পাওয়া যায়। যেটাতে মন চায় উঠতে পারেন। তবে হাতে অনেক সময় থাকলে শব্দহীন ডিঙ্গি নৌকাই উত্তম। নৌকা সারাদিনের জন্য ভাড়া করে নিতে পারেন। নৌকা চলার সাথে সাথে বিকালের শান্ত পরিবেশে বেলাই বিল হয়ে ওঠে অপূর্ব। বেশি সময় নিয়ে গেলে সঙ্গে করে অবশ্যই খাবার নিয়ে যাবেন।

দ্বীপের মতো গ্রাম বিলের চারপাশে। বামচিনি মৌজা গ্রামটি বেলাই বিলের একটি দ্বীপ গ্রাম। এর বিশেষত্ব এক মৌজায় এক বাড়ি। গাজীপুরে এই বামচিনি মৌজা ছাড়া এমনটা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। হয়ত চোখে পড়ে যাবে শস্য ঝাড়াইয়ের দৃশ্য। বাতাসে উড়ছে তুষের গুঁড়া, ধুলো। আশপাশের সব চড়ুই পাখি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শস্যদানা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে। ছবির মতো সুন্দর সে দৃশ্য। চেলাই নদীর কী স্বচ্ছ টলটলে পানি! খুব বেশি চওড়া নয় চেলাই নদী, তবে খুব গভীর । আগের সেই খরস্রোতা রূপ আর নেই।

বেলাই বিল মানেই শাপলার ছড়াছড়ি। কেবল চারিদিক তাকিয়ে থাকতে মন চাইবে আপনার। নদীর নীল আকাশের বুকে যেন রঙিন কারুকার্য। দূরের সবুজ, মায়াবী আকাশ, বিলের পানিতে সেই আকাশের ছায়া আর একটু পর পরই বাতাস যেন উড়িয়ে নিয়ে যায়। সব মিলে এক অপূর্ব সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে। চারিদিকের নিস্তব্ধতা, পানির হাল্কা স্পন্দন আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে অন্যরকম ভালোলাগা জেগে ওঠে প্রাণে। সন্ধ্যায় অসাধারণ এক সৌন্দর্য ফুটে উঠে বেলাই বিলে। সাদা বক আর গাঙচিল উড়ে যায় তার নীড়ে। সে এক মন হরণ করা দৃশ্য। এছাড়াও নদীর পাশে ‘ভাওয়াল পরগণা’ শ্মশান বাড়ি আছে। চাইলে নদীর পাশেই এই শ্মশান বাড়িটি দেখে আসতে পারেন।

যাবেন কিভাবে:
প্রথমে গুলিস্তান থেকে বাসে গাজীপুর বাস-স্ট্যান্ড। আবার চাইলে মহাখালী থেকেও বাস নিতে পারেন। এরপর গাজীপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা টেম্পোতে কানাইয়া বাজার। কানাইয়া বাজার ঘাটে দেখতে পাবেন সারি সারি নৌকা বাঁধা। দরদাম করে উঠে পড়ুন। বর্ষাকাল বেলাই ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। চাইলে নিজস্ব বাহনেও যেতে পারেন দলবেঁধে। নিজস্ব গাড়িতে টঙ্গী-পুবাইল হয়ে কানাইয়া গেলে সময় বাঁচবে, সঙ্গে যুক্ত হবে মনোরম পথ-সৌন্দর্য। এক দিনের জন্য দারুণ বেড়ানো হয়ে যাবে।