টঙ্গীর মালেকের হোটেল- এখনও ধরে রেখেছেন পুরনো সেই ঐতিহ্য!

0
158

টঙ্গীর মালেকের হোটেল-এখনও ধরে রেখেছেন পুরনো সেই ঐতিহ্য!

ফেসবুকের মাধ্যমেই মালেকের হোটেল সম্পর্কে জানা হয়। হোটেলটি অনেক পুরাতন। ১৯৪৭ সালে মরহুম আব্দুল মালেক সাহেব হোটেলটির প্রতিষ্ঠা করেন। এ থেকেই এর নাম মালেকের হোটেল। যদিও বাহিরের সাইনবোর্ডে লিখা রয়েছে তাজ রেষ্টুরেন্ট, কিন্তু টঙ্গীর মালেকের হোটেল না বললে চিনতে সমস্যা হতে পারে। হোটেলটি টিনের ঘর, উপরে মলি বাশের পাটাতন, ফ্যান, হ্যাজাক লাইট, ফ্লোর এখনো কাচা রয়েছে, লোহার বেঞ্চ সবই সেই পুরাতন আমলের। সিট না পেলে বারান্দায় বসার জন্য কাঠের বেশ বড়সড় আকৃতির বেঞ্চ ও টেবিল রয়েছে।

টঙ্গীর মালেকের হোটেল
টঙ্গীর মালেকের হোটেল

ভিতরে খাওয়ার জন্য পাচটি টেবিল রয়েছে একেকটি টেবিলে ৪ জন করে মোট ২০ জন বসতে পারেন। মহিলাদের জন্য রয়েছে আলাদা কেবিন। বসার সাথে সাথে চলে আসবে পিতলের জগভর্তি পানি, যা অনেকটাই ভারি, প্লেট, গ্লাস, সাথে ভাত সবজি সালাত ও ময়লা ফেলার জন্য বাটি বা গামলা;

এখানে যেসব খাবার পাবেন!

তারপর আপনি যা অর্ডার করবেন তা চলে আসবে মুগডাল দিয়ে খাশির মাংশ সাথে ভাত ডাল -১৮০, বোয়াল মাছ, আইড় মাছ, ইলিশ মাছ,চিংড়ি মাছ ও ভাত ডাল ২৫০/- সহ বিভিন্ন আইটেমের খাবার পাবেন। দেশী মুরগী, নদীর মাছ পাবেন। ডাল উনাদের অসাধারন হয়, ডাল উনারা নিজেরাই সার্ভ করে, সাথে উনাদের লাবাং টা অনেক বেশী স্বাদের, দাম বেশী কমও না আবার অনেক বেশী ও না। কাচ্চি, তেহারি ও পাওয়া যায় খুব বেশী ইচ্ছা থাকলে খেতে পারেন। এইখানে ভাত সবজি ডাল মাছ মাংশ এর জন্য খুবই ভাল । এইখানে আসলে যে কেউ বুঝতে পারবেন পুরাতন ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছেন। দুইটি বেসিন ও টয়লেট রয়েছে হাতমুখ ধোয়ার জন্য যা নতুন স্থাপন করা হয়েছে। দেওয়ালে একই ব্যক্তির দুটো ছবি টানানো রয়েছে। দেওয়ালে বেশ কিছু ইসলামিক বানী লেখা রয়েছে, পাশাপাশি কিছু কোরআনের আয়াত ছবির ফ্রেমে বাধাই করা রয়েছে।

টঙ্গীর মালেকের হোটেল
টঙ্গীর মালেকের হোটেল

দেওয়ালে চোখে পড়ার মত লিখা হল-

“তাড়া হুড়া হইলে চলিয়া যাইতে পারেন”-
“পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ”
“এই বোর্ডে যাহা লিখা আছে (খাবারের মূল্য তালিকা)এর অতিরিক্ত বা বেশি খাইলে আলাদা বেশী মূল্য দিতে হইবে। জোরহাত করিয়া বলি খাওয়ার সাথে সাথে বিল পরিশোধ করিবেন নতুবা পিছনের লোকের খাওয়ার ক্ষতি হয় এবং আমাদের বিক্রয়ের ক্ষতি হয়”-
“জুটা বাটিতে রাখুন”
“হাত বেছিং এ হাত ধুইবেন”-
বেছিং এ সাবান পানি আছে”
“খাওয়ার সাথে সাথে বিল পরিশোধ করুন”-
“প্রতি টেবিলে চারজন করে বসিবেন”-
“আপনি উচ্চস্বরে কথা বলবেন না ও রাজনৈতিক আলাপ করিবেন না”-
“দয়াকরে ভিতরে ডুকবেন না আপনাদের মত আমাদের ও পরিবার আছে”।

৭১ বছর বয়সী এই হোটেল সারাজীবন ধরে রাখুক গাজীপুরের বুকে স্বাদে গুনে এই ঐতিহ্য।

টঙ্গীর মালেকের হোটেল
টঙ্গীর মালেকের হোটেল
টঙ্গীর মালেকের হোটেল
টঙ্গীর মালেকের হোটেল

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

ঢাকা থেকে সোজা আব্দুল্লাহপুর নামতে পারেন অথবা হেলপার কে টঙ্গী বাজার নামবেন বললে নামিয়ে দিতে পারে। যদি আব্দুল্লাহপুর নামেন তাহলে ২ মিনিট হেটে টঙ্গী বাজার মসজিদ এর গলি দিয়ে সামনে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে মালেকের হোটেল