আদর্শবান হোমিও চিকিৎসক – ডাক্তার স্বপন কুমার চক্রবর্ত্তী

0
557

আমার দেখা ডাক্তার স্বপন কুমার চক্রবর্ত্তীঃ-

০২/১১/২০১৩ ইং তারিখ বিকাল দুইটার দিকে ভার্সিটি শেষ করে আমার এলাকার বড় ভাই হোমিওপ্যাথি ডক্টর ডাঃ রিটন এর নিকট ফোন করি। উনিই ছিলেন আমার একমাত্র মানসিক সাপোর্ট দান কারি। বলি ভাই উত্তরার ডাক্তার খন্দকার মাহবু্বুর রহমান দেশের পরিস্থিতির কারণে দেশের বাহিরে, উনার ছেলেদের নিকট চলে গেছেন, এখন আমি কি করব? বলে রাখি উনার নিকট চিকিৎসার ধরন ছিল এক ফাইল ঔষুধ দিত ৩ দিন খেতে হত এক মাসে আর কোন ঔষুধ নাই ফলে আমি একটু আনইজি ফিল করতাম। ডাক্তার রিটন বলল তুমি থাক কই? আমি উত্তর দিলাম ভাই বাসাবো খালাম্মার বাসায় । উনি বললেন তুমি কমলাপুর ডাক্তার স্বপন কুমার চক্রবর্ত্তীকে দেখাও, তুমি যেই টাইপের ঔষুধ খাও উনি এইরকম ঔষুধ দেন। আমি ডাক্তার স্বপন চক্রবর্ত্তী সাহেবকে ফোন করি, উনার ওয়াইফ ফোন ধরেন বলেন বিকাল ৫ টার পরে উনি চেম্বারে আসবেন আমি দুই ঘন্টা ওয়াইট করি। উনার সাইনবোর্ডে লিখা ষ্টুড ফার্স্ট (গোল্ড মেডেলিষ্ট) জটিল রোগির চিকিৎসক।ডাক্তার স্বপন কুমার

উনি আসেন ৫ টার পর সালাম দিলাম দেখি একটু মুডি টাইপের, কম কথা বলেন। উনার রুমে প্রবেশের সাথে সাথে উনি জিজ্ঞেস করলেন আপনার সমস্যা কি? আমি বললাম লিভার ইনক্রিয়েজ ও আই বি এস (আমায়শা ২ বছর ভুগছিলাম)। উনি লিখতে লাগলেন পুরাতন সকল রোগের ইতিহাস, বংশের কার কি রোগ, বড় কোন রোগে ভোগছেন কিনা? কি খেতে পছন্দ করেন, জিহবা দেখেন ইত্যাদি লিখতে লিখতে রোগের পরিমাণ দাড়ালো ২৩টি। উনি পরে বললেন আপনার এত রোগ আপনি এখন আমার নিকট কোনটার চিকিৎসা করবেন? আমি বললাম লিভার ইনক্রিয়েজ এবন আইবিএস এর চিকিৎসা করতে চাচ্ছি।

উনি বললেন আপনাকে ১-১.৫ বছর লাগতে পারে এমনকি এর চেয়ে বেশী সময় ধরে আপনি কি রেগুলার কন্টিনিউ করতে পারবেন? আমি বললাম স্যার পারব যেখানে বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার বলেছেন আপনি যতদিন বাচবেন এইভাবেই বাচবেন আমি কেন পারব না? পারব স্যার। উনি ঔষুধ দিলেন এখন প্রথমবার ভিজিট আসল ৭০০/- টাকা, এরপর থেকে এখনো পর্যন্ত ৩০০/- টাকা করেই নিয়ে থাকেন। আমার কাছে ছিল মাত্র ২০০/- টাকা। উনিতো সামান্য রেগে বললেন যিনি পাঠালেন তিনি কি আমার ভিজিটের ব্যাপারে বলেন নাই। আমি উত্তর দিলাম স্যার আমি উনার কাছে জানলাম, কিছুক্ষন আগে আপনাকে ফোন দেওয়ার আগে। আমি বললাম স্যার আমি চিকিৎসা করানোর জন্যই আসছি পরবর্তীতে যখন আসব অবশ্যই টাকা পরিশোধ করব।

আমার কনফিডেন্স ছিল যে আমি উনাকে কথা দিয়ে কনভেন্সড করে ফেলব। উনি ঔষুধ সহ আমার কাছে বললেন ৫০০/- টাকা দিয়েন যেহেতু ছাত্র। আমি ঔষুধ কন্টিনিউ করলাম প্রথম দিকে আমার সব রোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। কিছুটা অসহ্য ও লাগছিল। ঔষুধ খেলাম ৩ মাস পর দেখলাম কিছুটা ভাল লাগল ৬ মাসে আরো কিছুটা ব্যাটার। ১৫ মাসে আমার আইবিএস ৮০% কমে গেল। আলহামদুলিল্লাহ এখন আর নেই। এর ভিতর বাকীরোগ এর চিকিৎসা শুরু হয়। উনার চিকিৎসার ধরণ হলো রোগ যত হউক না কেন উনি কম্বাইন করে ২ ফাইল ঔষুধ দেন যা ১৪-১৫ দিন যাবে এবং প্রতিদিন সকালে খালিপেটে খেতে হয় ৮/১০ ঝাকি দিয়ে। উনার নিকট চিকিৎসা করাতে গিয়ে দেখলাম উনি কোন নিষেধ দেন না বলে দেন যেইটা খেলে আপনার সমস্যা হয় সেইটা খাবেন না। কিন্তু মাংশ কম খেতে বলেন। আমি তাও অনেক মেইন্টেইন করেছি। মাছ মাংশ খেলে তা আগে ঝাকিয়ে রস ফেলে তারপর তা খেতাম। আমি দুইবছর ভাল কিছু খেতে পারতাম না।আলহামদুলিল্লাহ! এখন সব খাইতে পারি। দুধ খেলে ডিরেক্ট হয়ে যেত, এখন খেতে পারি।

আমার মেইন সমস্যা ছিল আইবিএস, সাইনোসাইটিস, নাকের সমস্যা, ঠাণ্ডা, কোল্ড এলার্জি, স্কিনে সমস্যা, ব্যাকপেইন, রিং ওয়ার্ম, এনাল ফিশারের সমস্যা ছিল আলহামদুলিল্লাহ ২-১ টা রোগ ছাড়া ২১ টা রোগ থেকে আল্লাহ আমাকে শেফা দান করেছেন, উনার উছিলায়। আমি এখনো রেগুলার ট্রিটমেন্ট নিয়ে থাকি। এরপর আমি প্রথম উনার নিকট একজন রোগি নিলাম জন্ডিস এর পরে লিভার এর সমস্যা ও কেন্সারের প্রাথমিক ষ্টেজে চলে গিয়েছিল উনাকে নিয়ে আসলাম, পরে উনি চিকিৎসা করে আল্লাহর রহমতে সুস্থ হন পরে ল্যাবএইডে অনেকদিন চাকুরী ও করেন। এখন উনার সাথে আর যোগাযোগ হয় না। এরপর আমার রুমমেট আসিফের হাতে একটা গুটির মত শক্ত ছিল, হাড় বাড়ার মত যা অনেক পুরাতন ছিল ২ ফাইল ঔষুধ খাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ চলে যায় এরপর সে ঠান্ডার চিকিৎসা করেছিল এবং করছে, এরপর সে তার বোনকে নিয়ে এসেছিল। একবছর আগে শফিকুল ভাই রেগুলার স্কয়ারে ব্যাকপেইন এর চিকিৎসা নিতেন। উনি রেগুলার ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিতেন ওয়াইটিং ফর ডাক্তার ইন স্কয়ার হসপিটাল। পরে আমি উনাকে ফোন দিলাম। কথা হল উনি বললেন উনি ক্লাশ এইট থেকে এই ব্যাথা, ডাক্তারকে ফোন দিলাম উনি বললেন দ্রুত দেড়টার মধ্যে আসেন। আমি কুইজ মিস দিয়ে সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম ডাক্তার এর নিকট ডাক্তার সকল হিষ্টুরি শুনে ঔষুধ দিলেন। আমি শফিক ভাইকে বললাম ভাই আপনার রোগ কি অবস্থা ৩ মাসের আগে আমাকে কিছু বলবেন না। ১৫ দিন ঔষুধ খাওয়ার পর উনি আমাকে ফোনে বলেন ইব্রাহীম আমিতো আগের থেকে অনেক ভাল আছি। আজ ও উনার সাথে কথা হল আগের থেকে উনি অনেক ভাল আছেন। এর পর ক্লোজ বড় ভাই হাফিজুদ্দীন হাবিব ভাইকে নিয়ে আসি উনার নিকট। হাবিব ভাইকে ডাক্তার অপারেশন এর কথা বললে উনি খুবই ভয় পান তাই উনাকে নিয়ে আসলাম। আজ তিনি অনেক রোগ থেকে অনেকটা সুস্থ ফিল করছেন, উনার মেইন সমস্যা ছিল উনার প্রস্রাব অনেক ধেড়িতে হত, পুরাতন আমায়শার রোগে ভুগছিলেন। আমি এইরকম অনেক রোগী এনেছি আলহামদুলিল্লাহ যারা ধৈর্য্যসহকারে চিকিৎসা করতে পেরেছেন তারা আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছেন। উনি একজন নীতিবান মানুষ, আদর্শ ডাক্তার। উনার সাথে আমার এখন এইরকম সম্পর্ক আমি যদি কোন রোগি পাঠাই গিয়ে আমার নাম বললেই উনি জিজ্ঞেস করেন কাপাসিয়ার ইব্রাহীম কিনা? আমার রেফারেন্সে যারা যান উনাদেরকে উনি আলাদা একটা সম্মান করেন এবং রিপোর্ট ফাইলের উপরে লিখে রাখেন রেফারেন্স বাই ইব্রাহীম। কেউ ভাববেন না এরজন্য উনি আমাকে এক্সট্রা ফ্যাসিলিটি দেন। উনি খুবই নীতিবান মানুষ। অনেক কষ্টে উনাকে রাজি করিয়েছিলাম নটরডেমে পড়ুয়া একটি ছেলের স্কলারশীপ অর্থ প্রদান করার জন্য, অর্থ প্রদান করি আমি নিজে। ছেলেটির স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া তাই উনাকে দেখিয়ে দেই এবং তাকে উনার আদর্শের কথা জানিয়ে দেই বলি উনার মত ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা করবে।ডাক্তার স্বপন কুমার

যদি কেউ কোন জটিল সমস্যায় ভোগেন আমি চাই প্রতিটা মানুষ উনার দ্বারা উপকৃত হউক। উনার যত রোগী আছেন আমাদের মত রোগীদের সফলতার গল্প শোনেই আসেন আজ উনার নিকট প্রচুর রোগী। সিরিয়াল ছাড়া আসলে একটু কষ্ট পোহাতে হবে এইটা স্বাভাবিক। আমি একসময় হোমিওকে চিকিৎসাই মনে করতাম না, বলতাম কলের পানি খাওয়া এর চেয়ে ভাল, আমার শরীরের ওজন যতটুকু অত পরিমাণ এলুপ্যাথিক ঔষুধ খেয়েছিলাম। আজ এলুপ্যাথিক ঔষুধ খাওয়া ই হয় না। যদি কেউ উনার কাছে যেতে চান বা কেউ দীর্ঘদিন যাবত জটিল রোগে ভুগছে ভাল হচ্ছেনা তাহলে একবার দেখাতে পারেন, সুস্থতার মালিক আল্লাহ উনি উছিলা। ক্যান্সারের রোগী যদি হয় প্রাথমিক ষ্টেজ হলে আনতে পারেন। সব ভাইজা খাইয়া আসলে লাভ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা করতে হবে। আমি যে কোন সমস্যা হউক উনাকে আগে দেখাই। আমি আপনার জন্য উনার কাছে যেতে রাজি আছি আমাকে কিছুই করতে হবেনা, আপনি যদি সুস্থ হন আমার জন্য দোয়া করবেন এইটাই আমার চাওয়া। আজ আমি জীবনে যদি কোন ডাক্তারের ভক্ত হয়ে থাকি, তাহলে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ভক্ত হয়েছি। তিনি হলেন ডাক্তার স্বপ্ন কুমার চক্রবর্ত্তী। ভাল থাকুন আপনি এইভাবেই সেবা দিয়ে যান সবাইকে, আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার নেই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমার লিখাটি।

লেখকঃ ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ