বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের বানী সমূহ (১-৫০)

0
112

১। “সুন্দর কল্যাণময় সমাজ গড়ে তোলা বক্তৃতা মঞ্চ থেকে উঠে আসে না। এ জন্য প্রয়োজন কাজ করার।

২। যখন আমরা আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হব তখনই আমরা শহীদদের প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা জানাতে পারব।

৩। সরকারের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরার মধ্যে অন্যায় কিছু নাই বরং এতে সত্যিকার অবস্থা জানা সরকারের সহায়ক হবে। মন্ত্রীর লেবেল এটে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যাব না।

৪। আমাদের যুবকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মননশীলতা গড়ে তুলতে হবে। সংবেদনশীল মানসিকতা বিকাশের জন্য যে কয়টি পন্থা আছে স্কাউটিং তার অন্যতম। স্কাউটদের গণমুখী, জাতীয়তামুখী করে তুলতে হবে।

৫। দেশের শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত যাতে তারা শিশুদের মানসিক গঠন বুঝে শিক্ষা দানে সক্ষম হন।”

৬। ছাত্র সমাজকে পরস্পরের মতের প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ছাত্রদের রাজনীতির পাশাপাশি লেখাপড়াও ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। ছাত্রদের মনে রাখতে হবে তাদের প্রাথমিক এবং প্রধান কর্তব্য হলো লেখাপড়া করা।”

৭। “সারা দেশের ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের সম্মিলিত সংগ্রামের এ জোয়ারকে রোধ করার প্রয়াস যেমন হঠকারিতা—দেশের বৃহত্তর কল্যাণের প্রশ্নে সচেতন না থেকে সে জোয়ারে অবলীলায় গা ভাসিয়ে দেয়াও তেমনি মারাত্মক পরিণামবহ। জনগণের কল্যাণ সাধন ও দেশবাসীর অধিকার আদায়ের আজকের এ সংগ্রাম যাতে চরমপন্থীদের উস্কানি ও স্বার্থান্বেষীদের প্ররোচনায় বানচাল না হয়ে যায়, সে জন্য প্রয়োজন হলে দেশের প্রবীণ নেতৃবৃন্দকে ঝুঁকিও গ্রহণ করতে হবে। সব রকমের ভাবালুতা, অতি-উৎসাহ বা উন্নাসিকতাকে সর্বোচ্চ চেষ্টায় এড়িয়ে চলতে হবে এবং অটুট ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”

৮। দেশবাসীর আজকের সংগ্রাম চরম সংগ্রামের প্রথম পর্যায় । তাই এই পর্যায়ে কোনোক্রমেই ভুল করার সুযোগ নেই। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন এবং সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে যেমন উদ্বেল হওয়ার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনি এ অবস্থায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা এ সংগ্রামকে বানচাল করে দেয়ার ধৃষ্টতাও কারো থাকা সমীচীন নয়। জাতির জন্য যা কিছু কল্যাণকর তাই আমাদের কাম্য এবং তা গ্রহণ করার মতো অবারিত মনও আমাদের থাকা দরকার।”

৯। “পবিত্র ইসলামের নামে যারা জনগণকে ধোকা দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে, ৬ দফা তাদের কায়েমী স্বার্থবাদী রাজত্বে ভাঙন ধরিয়েছে বলেই আজ তারা বেসামাল হয়ে উঠেছে। ইসলাম শোষণহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছে।”

১০। “ছাত্রলীগের আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করতে হলে চরিত্রবান ও আদর্শবান হতে হবে। ছাত্রদেরকে শৈশব থেকে মহৎ গুণ অনুশীলনের জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। ছাত্ররাই ভবিষ্যতের নেতা ও রাষ্ট্রনায়ক। দেশ ও সমাজকে সুখী করতে হলে নিজেদের চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখতে হবে।”

১১। আমাদের মূল লক্ষ্য হল জনসাধারণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ তার একটি পন্থা মাত্র। যদি এ পন্থা অবলম্বনের সুযোগ আমাদের না দেওয়া হয় অর্থাৎ যদি নির্বাচন বানচাল করা হয় কিংবা নির্বাচিত পরিষদকে সুদুরূপে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ না দেওয়া হয়, তা হলে আমাদের আন্দোলনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সে জন্যই প্রয়োজন আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্ববিধ অঙ্গ সজীব ও সতেজ রাখা।”

১২। ইসলামের তথাকথিত হিতৈষীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও তাদের প্রভুদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ধর্মের নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে হয়, বৈষয়িক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মের নাম ব্যবহার ইসলাম অনুমোদন করে না। যারা মসজিদকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে এবং জনগণের দাবি নস্যাৎ করার জন্য ধর্মের ভীতি প্রদর্শন করে, প্রকৃতপক্ষে তারা ইসলামের হিতৈষী নয়।

১৩। আমরা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বাংলার সর্বনাশা বন্যা সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান করব।

১৪। ভরা মওসুমে বাংলার চাষির হাতে যখন পাট থাকে তখন ব্যবসায়ীরা চক্রান্ত করে পাটের মূল্য কমিয়ে রাখে অথচ চাষি ভাইদের হাত থেকে পাট চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এই নিয়মের অবসান করতে হবে।

১৫। জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক ৬ দফার সমালোচনা ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে অনৈসলামিক অভিহিতকরণ প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, যখনই বাংলার জনগণ কোন ন্যায্য দাবি উত্থাপন করে, তখন এই সমস্ত ব্যক্তি একই স্লোগান ব্যবহার করে। ভাষা আন্দোলনের সময় এবং মুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নে তারা ইসলাম বিপন্ন বলে স্লোগান তুলেছিল। কিন্তু ওই বিষয়গুলি ইসলামকে আদৌ বিপন্ন করে নাই।”

১৬। ঘূর্নিঝড়ে আক্রান্ত উপকূলীয় এলাকার সাহায্যের নামে সমস্ত আওয়ামী লীগ ইউনিটকে রাস্তায় অর্থ সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এই সুযোগে বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন নামে রাস্তায় চাঁদা সংগ্রহ করে।

১৭। বাংলার মানুষের জন্য দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হলেই এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী ও কায়েমী স্বার্থের তল্পিবাহক সংহতি ও ইসলাম বিপন্ন বলে জিগির তুলতে থাকে।

১৮। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় সাহায্য তৎপরতায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা যত বেশি সংখ্যায় প্রয়ােজন হোক সরকারি সংস্থাগুলোকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে।

১৯।“নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিনিধিত্বশীল সরকারই সবচাইতে কার্যকরিভাবে জনগণের বিপদের মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে পারে।”

২০।দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ বংশধরগণ যাতে সত্যিকার নাগরিক হতে পারে, সে রকম শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

২১। আমরা বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব, যা সোভিয়েট রাশিয়া কিংবা চীনের ধরনে হবে না, বরঞ্চ তা হবে আমাদের নিজেদের মতো। আমরা গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় ঘটাব, যা বিশ্বে একটি অসাধারণ ব্যাপার হবে।

২২। ১৯৭১ সালে আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন যুদ্ধ করতে হয়েছিল, তেমনি কূটনৈতিক ফ্রন্টেও যুদ্ধ করতে হয়েছিল আমাদের। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করার লক্ষ্য ছিল নভেম্বর মাস। কেননা, আমি জানতাম, বাংলাদেশে বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাদের পরাস্ত করতে না পারলে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ সফলকাম হবে না এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাও আসবে না। এ ছাড়া আরও বুঝেছিলাম যে, ওই সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে না যাওয়া হলে মার্কিনিরা তার সুযোগ নেবে এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধকে নিয়ে আসবে বাংলার মাটিতে। কেননা, আমেরিকাকে ভিয়েতনাম থেকে সরতেই হবে। আর এ সম্পর্কে আমরা খুবই হুঁশিয়ার ছিলাম।

২৩। বাংলাদেশের নিরন্ন দুঃখী মানুষের জন্যে রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে মুক্তি। এই পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত হোক সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙালি ভাইবোনের সম্মিলিত মনোবল ও অসীম শক্তি। যারা আজ রক্ত দিয়ে উর্বর করছে বাংলাদেশের মাটি, যেখানে উকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ, তাদের রক্ত আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে গড়ে উঠুক নতুন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা; গণ-মানুষের কল্যাণে সাম্য আর সুবিচারের ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা থাকে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় স্বাধীন বাংলাদেশ’।”

২৪। বাংলাদেশের চাষি, শ্রমিক, তাঁতী, মজুর, ছাত্র-যুবকসহ সর্বশ্রেণীর মানুষ যে আশা ও আকাক্ষা নিয়ে স্বাধীনতা লাভের রক্তক্ষয়ী বিপ্লব শুরু করেছিল, সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপায়িত হলেই আমাদের বিপ্লব সফল হবে, তার আগে নয়।”

২৫।“সুন্দর কল্যাণময় সমাজ গড়ে তোলা বক্তৃতা মঞ্চ থেকে উঠে আসে না। এ জন্য প্রয়োজন কাজ করার।”

২৬। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যে সব যুদ্ধবন্দি গত নয় মাসের গণহত্যা ও অন্য অপরাধের জন্য দায়ী হবে তাদের বিচার করা হবে।”

২৭। সরকার যদি কোনো ভুল করে তবে সংবাদপত্রসমূহ তার সমালোচনা করুক এটাই সরকার চান। তবে সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা করা পরিহার করতে হবে। কারণ এতে জনগণের মনে বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়ে থাকে।”

২৮। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে দেশে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। অর্থনৈতিক ও গঠনমূলক কর্মসূচির উপর ভিত্তিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকেই শুধু এখানে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশ হবে একটি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। রাষ্ট্র কোনো ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না। ধর্মের নামে কাউকে শোষণ করতে দেওয়া হবে না। ধর্মীয়ভিত্তিতে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থাকবে না। দেশের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত দলই শুধু সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হবে।”

২৯। যে সকল ব্যক্তি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যোগসাজশ করে বাংলাদেশে নরমেধ যজ্ঞের সৃষ্টি করেছিল। তাদের একজনও রেহাই পাবে না।”

৩০। এতদিন তোমরা পরাধীন ছিলে, আজ তোমরা স্বাধীন। তোমাদের উদার মন ও প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটাতে হবে।”

৩১। দেশকে পুনর্গঠনের জন্যে আমাদের সাহায্যের দরকার আছে। কিন্তু সাহায্য নেওয়ার সময় আমাদের ভেবে দেখতে হবে। ভিক্ষুকের মতো দান আমরা নেব না। আমরা অনাহারে মরে যেতে পারি, তবু স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দেব না।”

৩২। স্বাধীন দেশের মানুষের মতোই এ দেশের শিশুরাও চিন্তার স্বাধীনতা পাবে। আমাদের বড়দেরকেই শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।”

৩৩। যখন আমরা আমাদের প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চিয়তা বিধান করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হব, তখনই আমরা শহীদদের প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা জানাতে পারব।”

৩৪। কেবল ছােটরাই যে বড়দের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে তা নয়, ছােটদের কাছ থেকেও বড়দের অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে।”

৩৫। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্যে সঠিক শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করতে না পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিপ্লব পূর্ণ হবে না।

৩৬। সরকারের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরার মধ্যে অন্যায় কিছু নেই বরং এতে সত্যিকার অবস্থা জানা সরকারের সহায়ক হবে। মন্ত্রীর লেবেল এঁটে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যাব না।

৩৭। “অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন। দেশের নিরাপত্তা নির্ভর করে মেহনতি মানুষের সন্তুষ্টচিত্তের ওপর।”
৩৮।ন্যায় ও সত্যের খাতিরে কোনো দোষী ব্যক্তির প্রতি কারো উদাসীন থাকা উচিত নয়। দোষী ব্যক্তি পিতা, পুত্র, নেতা, শ্রমিক কিংবা সঙ্গী হলেও তাকে ক্ষমা করা চলবে না।”

৩৯। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ কায়েমে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
৪০। বাংলাদেশ এক বিরাট জনশক্তির অধিকারী। এই জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের দেশ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে উত্তরোত্তর এগিয়ে যেতে পারবে।”

৪১। আমাদের যুবকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মননশীলতা গড়ে তুলতে হবে। সংবেদনশীল মানসিকতা বিকাশের জন্য যে কয়টি পন্থা আছে স্কাউটিং তার অন্যতম। স্কাউটদের গণমুখী, জাতীয়তামুখী করে তুলতে হবে।”

৪২। এ কথা সকলের মনে রাখা দরকার যে, ঘেরাও করে অথবা বলপ্রয়োগ করে দাবি আদায় করা যায়, কিছু কাগজের নোট আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হবে না । কেননা, কাগজের নোট মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পানে । মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হলে সর্বক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।”

৪৩। সরকারি কর্মকর্তারা দলীয় কর্মকর্তার পদে বহাল থাকতে পারবেন না। একজন মন্ত্রীর পক্ষে দলীয় কর্মকর্তার পদে বহাল বাকা উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি যদি একই সাথে সরকার এবং দলে অন্তর্ভূক্ত হন তা হলে দলে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষতি এবং শাসন কাজে অসুবিধার সৃষ্টি হয়।”
৪৪। কুটির শিল্প কি করে বড় শিল্পের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারে তার জন্যেও আজ চিন্তা ভাবনা করতে হবে এবং এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”

৪৫।যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে শিক্ষার সুযোগ না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সুবিধাভোগী শ্রেণী এই সুযোগ গ্রহণ করতেই থাকবে।

৪৬। শিক্ষা গ্রহণ করে যদি আমরা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে না পারি সে শিক্ষার কোনো মূল্য নাই।”

৪৭। সন্তানের পিতাই কেবল একক পিতৃত্বের দাবিদার হতে পারেন না। একটি শিশুকে যিনি প্রাথমিক জ্ঞান, শিক্ষা দিয়ে মানুষ করে তোলেন, তাঁর দান কোনো অংশেই কম নয়।”

৪৮। সর্বস্তরে আজ ফাকিবাজি ও ভুল বোঝাবুঝি চলছে। কে কি করে কত পয়সা আয় করবে, সেই ফিকিরে সবাই ব্যস্ত এদের কারো মধ্যে সাধারণ মানবিক মমত্ববোধ আজ নেই।

৪৯। আমলা পৃথিবীর সর্বত্র আছে। সরকারের নীতি ও কর্মপ্রক্রিয়ার ওপর আমলাদের মনোভাব নির্ভর করে।”

৫০। পরমত সহিষ্ণুতা আজকের ছাত্র সমাজের সব থেকে বেশি প্রয়োজন। সুশৃঙ্খলভাবে চরিত্র গঠন করে ছাত্রদের দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হতে হবে। আদর্শগতভাবে অপরের মতামত অস্বীকার করার পূর্ণ অধিকার সকলেরই আছে।”

সূত্রঃ তাজউদ্দীন আহমদের আলোকভাবনা (পৃষ্ঠা:০১-১৮)
ধারাবাহিক চলবে——-

Facebook Comments