ধানক্ষেত । গ্রামের মাঠ। ক্রিকেট। ফুটবল । শৈশব । তারুন্য । উচ্ছেদ- এর বাস্তব রুপকথা

ছবিটি রায়েদ ইউনিয়নের রায়েদ মধ্যপাড়া থেকে তোলা। ছবি: জহির বাপ্পী

চাষ করা ছবিটা একটি পতিত জমির। এলাকার ছেলেরা তাদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে জমিটা চাষ করে সমান করছে মাঠ বানিয়ে খেলাধুলা করবে বলে। ছবিটি রায়েদ ইউনিয়নের রায়েদ মধ্যপাড়া থেকে তোলা।

গ্রামে বেশিরভাগ মাঠ হয় মূলতো ক্ষেতের ফসল উঠে গেলে। যখন ক্ষেত গুলো পতিত থাকে এলাকার ছেলেরা নিজেদের পকেটের টাকা তুলে মাঠ বানিয়ে নেয়। খেলা হয় ধানক্ষেতকে মাঠ বানিয়ে। বিকেল হলেই এলাকার ছেলেরা দল বেধে মাঠে চলে আসে ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলতে। আবার যখন ফসলের মৌসুম চলে আসে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়। কিংবা জমি পতিত থাকাকালীন ছেলেরা খেলা চলাকালীন সময়েই জমির মালিকেরা ছেলেদের খেলায় বিরক্ত হয়ে কষ্ট করে বানানো ধানক্ষেত থেকে মাঠ তৈরী করা বিকেল বেলার প্রিয় জায়গাটাকে চাষ করে ফেলে।
তবে এবারের মাঠটা একটু ভিন্নভাবে অনেক টাকা খরচ করে খুব যত্ন সহকারে বানাচ্ছে ছেলেরা। কারন তাদের ভাষ্য মতে এ জায়গাটা খুব সম্ভবত অনেকদিন ধরে পতিত থাকবে। এবং বেশ অনেকদিন তারা খেলতে পারবে এ মাঠে।রায়েদ মধ্যপাড়া এলাকার জনাব মান্নান মেম্বার এর বাড়ি সংলগ্ন এ জমিটাকে মাঠ বানানোর জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সকলের প্রিয় নেতা সোহেল তাজ। উনার নিজের কেনা জমি এটা। খুব সবম্ভত উনি কোন একটা প্রজেক্ট করবেন এতে। যার সিদ্ধান্ত এখনো চলছে এবং হয়তো এর কাজ শুরু হতে আরো বেশ অনেকদিন সময় লাগবে।জনাব সোহেল তাজ নিজেই উৎসাহ দিয়েছিলেন জমিটা যতদিন পতিত থাকবে ছেলেরা মাঠ বানিয়ে খেলতে পারবে। আর এলাকার ছেলেরা যথেষ্ঠ উৎসাহী খেলাধুলার ব্যাপারে। পতিত থাকা জমিটাকে সুন্দর করে চাষ করে সমান করে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই। হয়তো আর কিছুদিন পরই বিকেল বেলায় আবারো ছেলেরা দলবেধে মাঠে নামবে খেলাধুলা করতে।

তবে কষ্টের কথা এটাই, দু দিন পর হোক কিংবা দুবছর পর হোক হয়তো সুন্দর করে গোছানো এ মাঠটাকেও হারাবে ছেলেগুলো। আবার বিকেল বেলার সময়টা চলে যাবে মোবাইল স্ক্রিনে কিংবা অভিশপ্ত অবসরে। একটা মাঠ থাকলে যেটুক শারীরিক পরিশ্রম হয় সেটুক হয়তো আবারো বন্ধ হয়ে যাবে।
বাপ্পী,সুমন,সোহাগ,জনি,বাবু,মামুন সহ রায়েদ মধ্যপাড়া এলাকার খেলাপ্রিয় চমৎকার মানুষগুলোর পরিশ্রম ও অর্থে তৈরী হচ্ছে মাঠটি। তাদের থেকে জানা যায় এর আগে তারা পাশেই বাগেরহাট তালগাছ মাঠ নামক একটি পতিত জমিকে মাঠ বানিয়ে অনেকদিন ধরে খেলাধূলা করছিলো। কিন্তু এলাকার কিছু বিরক্তিকর মানুষ হঠাৎ মাঠটিকে চাষ করে ফেলে। তারপর অনেকদিন ধরে তারা এই ক্ষেত ঐ ক্ষেত কে মাঠ বানিয়ে খেলাধুলা চালিয়ে যাচ্ছিলো সুযোগ মতন। তবে এবার এই জমিটিকে মাঠ বানিয়ে খেলার জন্য তারা সবচেয়ে বেশী উৎসাহী।
ছেলেরা খেলবে কোথায়? মানসিকতার বিকাশ কীভাবে হবে। সুস্হ সুন্দর শারীরিক বিকাশ কীভাবে হবে?খেলাধুলা মনকে বিকশিত করে আর বিকশিত মন সমাজকে সুন্দর করতে সহায়তা করে!দুঃখজনক হলেও সত্য খেলাধুলার জন্য জায়গা নেই! প্রতিটা মহল্লা কিংবা এলাকায় সহৃদয়বান ব্যাক্তি / গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ যদি সমাজ কেন্দ্রিক একটা করে গোছানো মাঠ উপহার দিতো এলাকার ছেলেদের। তাহলে এই যন্ত্রিক জীবনে হয়তো অন্তত বিকেলবেলার সময়টা তারা কাটাতে পারতো সম্পূর্ন অযান্ত্রিক ভাবে।
অনুরোধ থাকলো ….!

Facebook Comments