দূ’আ কবুল না হওয়ার নয়টি অন্তরায়

0
208

১. হারাম খাওয়া, হারাম পরা, হারাম উপার্জন। (আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কবুল করেন না)
২. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ না করা/বাঁধা না দেওয়া।
৩. রিয়া/লোক দেখানো ও সুম’আত/আত্মপ্রচার/প্রশংসা পাওয়ার জন্য দু’আ-আমল করা।
৪. দূ’আ করার সময় তাড়াহুড়ো করা, অমনোযোগী হয়ে দূ’আ করা। বিনম্রচিত্তে-বিনীত হয়ে, ইখলাস-একনিষ্ঠতার সাথে, আন্তরিক-একাগ্রচিত্তে দূ’আ-আমল না করা।
৫. দূ’আ কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা (এমন বলা যে “আমি এতো দোয়া করি, আমার দোয়া তো কবুল হয় না।” এমন বললে ঐ দু’আ কবুল হয় না) (দু’আ করলে, আল্লাহ আপনার চাওয়া বিষয়টি দিবেন, অথবা এর থেকে উত্তম কিছু, অথবা একটা বিপদ সরিয়ে দিবেন, অথবা পরকালে সর্বোত্তম প্রতিদান দিবেন। এগুলোর যেকোন একটি পাবেনই, বিইজ নিল্লাহি তাবারকা ওয়া তা’আলা)
৬. দু’আর মধ্যে হারাম বিষয় চাওয়া। [এটা অত্যন্ত জঘন্য কাজ, আল্লাহর সাথে চরম বেয়াদবির সামিল।]
৭. বিদ’আতি পন্থায় দূ’আ করা। [বিদ’আত যুক্ত যেকোন আমল বাতিল]
৮. আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রাখা, এমন ধারণা রাখা যে আমি যেহেতু অনেক বড় পাপি, তিনি হয়তো আমার দূ’আ কবুল করবেন না, তিনি মনেহয় আমাকে দয়া করবেন না, বা আশাহত মনোভাব নিয়ে দু’আ করা, ইত্যাদি। (আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা ফরজ, কারণ মুনাফিক দের বৈশিষ্ট্যের একটি হল আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা সম্পর্কে বাজে আকিদা/ধারণা রাখা।) (আল্লাহর প্রতি যে যেমন ধারণা রাখে, আল্লাহ তাঁর প্রতি তেমন) (আল্লাহর কাছে কোন কিছু দাবি করা বা এমন মনোভাব রাখা অবান্তর বিষয়, কারণ তাঁকে বাধ্য করার কেউ নেই, তাই তাঁর কাছে পরিপূর্ণ আশা রেখে শুধুমাত্র তাঁরই ওপর ভরসা করুন)
[আপনি যদি বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকেন, তাহলে আপনার জন্য সুসংবাদ, আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন না বরং আনন্দিত হোন। কারণ, আপনি আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দা, যার ঈমান ও ধৈর্যের সীমা যত বেশি তার পরিক্ষাও তত কঠিন। পরিক্ষা করা আল্লাহর সুন্নাহ, আমরা ঈমান এনেছি শুধু এটা বললেই পার পাওয়া যাবে না, আমাদেরকে অবশ্যই পরিক্ষা করা হবে যেভাবে আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে করা হয়েছিল। আল্লাহ দেখে নিবেন আমাদের মধ্যে কে আমাদের বিশ্বাস/ঈমানের দাবিতে সত্য। এইটা সহ অন্যান্য যেসমস্ত কারণে আমরা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে পারিঃ আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাদেরকে ভালোবাসেন তাই কঠিন অবস্থায় ফেলে
A. আমাদের পাপ মোচন ও সংশোধন করবেন,
B. তাঁর নৈকট্য লাভ করাবেন,
C. মুমিন-মুখলিস-মুহসিনের স্তরের আমলকারী বানাবেন,
D. দ্বীনের জ্ঞান অন্বেষণকারী ও বুঝদার বানাবেন,
E. আমরা যে বিষয়ে চেষ্টা করছি হয়তো ঐটা আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অকল্যাণকর, এর বদলে আরো উত্তম কিছু দিবেন এজন্য আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি দিচ্ছেন না। আল্লাহ জানেন, আমরা জানি না।
F. এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ভবিষ্যতের পরিস্থিতি/রিজিকের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলছেন যাতে আমরা সহজেই ঐ পরিস্থিতি মেইনটেইন করতে পারি। ইত্যাদি।
তাই কখনোই হাতাশ হবেন না, নিশ্চয় কাফের সম্প্রদায় ব্যাতীত কেউ হতাশ হয় না। (লানত-গজব হিসেবেও দুঃখ-কষ্ট আসতে পারে। এটা বোঝায় উপায় হলঃ দুঃখ-দুর্দশায় ব্যাক্তি আরো অহংকারী হয়ে উঠবে, ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে উঠবে, আল্লাহকে দোষারোপ করবে, ঔদ্ধত্য-অহংকার বসত ফরজ ছেড়ে দিবে বা আরো বেশি হারাম কাজে লিপ্ত হবে, জুলুমের মাত্রা আরোও বাড়িয়ে দিবে, ইত্যাদি। তবে, শুধু মনের মধ্যে এগুলো করার জন্য ওয়াসওয়াসা আসলে তা অবশ্যই অবশ্যই শয়তানের পক্ষ থেকে। দ্বীনের প্রতি যার যত বেশি গাইরাত/টান, শয়তান তাকে তত বেশি ডিস্টার্ব/বিভ্রান্ত/ক্ষতি করার চেষ্টা করে। সমস্ত প্রকার অনৈসলামিক/নিকৃষ্ট/ইসলাম বিরোধী ওয়াসওয়াসাকে ঘৃণা/অপছন্দ করা সুস্পষ্ট ঈমানের পরিচায়ক, তাই ওয়াসওয়াস আসলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, ওগুলোকে অন্তর থেকে ঘৃণা করুন + শয়তানের ওয়াসওয়াসকে গুরুত্বহীন ভেবে বিন্দু পরিমাণও পাত্তা দিবেন না/কেয়ার করবেন না + ইবাদত-আমল চালিয়ে যান এবং প্রটেকশন-প্রতিকারের জন্য সুন্নাতি দোয়া-আমল ও প্রয়োজনে রুকিয়্যাহ শারিয়াহ করুন)]
৯. দূ’আতে যা চাওয়া হয়েছে, তা পাওয়ার জন্য কোন মানুষ/জ্বিন/ফেরেশতা/ওয়াসিলা বা অন্য কোন সৃষ্টির ওপর আশা-ভরসা করা। [আমাদের কর্তব্য হলঃ দূ’আ করা, সবর করা ও দু’আ কবুল হলো কিনা এটা চেক করার জন্য শুধুমাত্র আল্লাহরই ওপর ভরসা করে ও পরিপূর্ণ আশা রেখে, হারাম বাদ দিয়ে হালাল ওয়াসিলা অবলম্বন/তালাশ করা। মনে রাখবেন, ‘আর-রাজ্জাক’ নামটা শুধুমাত্র আল্লাহর। ‘আর-রাজ্জাক’ কোন মানুষ, চাকরি, সম্পদ, ব্যাবসা, পরিবার, সংগঠন, সমাজ বা দেশের নাম নয়।] দু’আ-আমলের কয়েকটি উত্তম ও নির্ভরযোগ্য বইঃ
১. হিসনুল মুসলিম(ফজিলত সহ উল্লেখ করা থাকলে, ঐটা নিবেন),
২. ‘দু’আ মাসনুনাহ’ -ঈমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ,
৩. ‘রাহে বেলায়েত’,
৪. ‘কালিমাতুত তয়্যিব’ –
শাইখুল ইসলাম ঈমাম ইবন তাইমিয়াহ্ রহিমাহুল্লাহ।