দোয়া কবুলের ৩৩ টি খাত, স্থান-কাল ও পাত্র!

180

দোয়া কবুলের ৩৩ টি খাত, স্থান-কাল ও পাত্র আছে যেইগুলো বিভিন্ন হাদীস দ্বারা আমরা জানতে পারি। নিম্নে তা দেওয়া হলঃ-

১। অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দোয়া করলে, কোন মুসলমানের পিছনে বা  অগোচরে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন।
২। মজলুম ব্যক্তি জালেমের বিরুদ্ধে দোয়া করলে তা কবুল হয়।
৩। কোন বাবা তার সন্তানের জন্য নেক হউক বদ হউক সেই দোয়া করলে তা কবুল হয়
৪। নেক সন্তান যদি তার বাবা মার মৃত্যুর পর দোয়া করলে তা কবুল হয়।
৫। নেককার ব্যক্তির দোয়া , ফরজ ও নফল পড়তে পড়তে যদি আল্লাহর খুব প্রিয় হওয়া যায় তাহলে আল্লাহর কাছে যা চাব আল্লাহ তা দিবেন।
৬। আরাফার ময়দানে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
৭। ফেরেশতা যখন উপস্থিত হয় সেই স্থানে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
৮। সিজদায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
৯। মক্কায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১০। হজ্বের যেই যায়গা গুলো আছে (আরাফা, মীনা, মুজদালিফা) সেইখানে দোয়া কবুল হয়।
১১। হাজী সাহেব হজ্ব করা অবস্থায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১২। ওমরাকারীর ওমরা করা অবস্থায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১৩। গাজী ব্যক্তি জিহাদের ময়দান থেকে যখন বীরের বেশে ফিরে আসেন তখন দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হয়।
১৪। আযানের সময় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১৫। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১৬। বৃষ্টি যখন বর্ষন হয় তখন দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১৭। যেই ব্যক্তি রাত্রে পবিত্র অবস্থায় জিকির করা অবস্থায় থাকে তার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
১৮। রাতের শেষভাগে অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সময় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
১৯। জুময়ার দিনে একটা বিশেষ সময় আছে সেই সময় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় ।কেউ বলেন জুময়ার আগে কেউ বলেন পরে কেউ বলেন আসরের পরে ,উত্তম হল জুমআর দিন সারাদিনই দোয়া করতে থাকেন।
২০।লাইলাতুল ক্বদরে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
২১। আযান ও এক্বামতের মাঝখানের সময়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
২২। সালাতের শেষ অংশে এসে দোয়া করলে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
২৩। মুসাফির ব্যক্তি সফর অবস্থায় দোয়া করলে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
২৪। রোজাদার ব্যক্তির রোজা অবস্থায় দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় ইফতারের আগ পর্যন্ত।
২৫। যখন মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় উপায় থাকেনা তখন দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়
২৬। ন্যায়পরায়ণ শাসক তার অধীনস্থদের উপর ঝুলুম করেন না তার দোয়া কবুল হয়।
২৭। ঘুম থেকে উঠার পর বিশেষ দোয়া পাঠ করলে তা কবুল হয়।
২৮। হযরত ইউনূস(আঃ) এর যেই দোয়া সেই দোয়া ( লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যুয়ালেমিন)  করে বিপদ থেকে বাচতে চাইবেন আল্লাহ তা কবুল করবেন।
২৯। ইসমে আযম পাঠ করে ,বিশেষ একটা দোয়া আছে ( লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায যুয়ালেমিন) দোয়া করলে দোয়া কবুল হ্য।
৩০। বিপদে পড়লে – ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফনি খাইরাম মিনহা – এই দোয়া পড়লে আল্লাহ বিপদ দূর করবেন ,এর চেয়ে উত্তম বিকল্প বিনময়  সওয়াব আল্লাহ দিবেন । এই দোয়া পরিক্ষিত।  উম্মে সালমা ( রাঃ ) আনহা বলেন স্বামী  আবু সালামার মৃত্যুর পর এই দোয়া পড়েছিলাম আল্লাহ আমাকে এরচেয়ে ভাল বিনিময় দিয়েছেন স্বয়ং রাসূল (সাঃ) আমার স্বামী বানাইয়া দিছেন ।
৩১। যেই ব্যক্তি আল্লাহর যিকির বেশী বেশী করে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।
৩২। কোরআন তেলাওয়াতের পর দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।
৩৩। যমযমের পানি পান করার পর দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।

আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালা আমাদেরকে দোয়ার সমস্ত শর্তগুলো পূরণ করে এই স্থান ,কাল,পাত্র, মুহুর্তগুলোকে খুব বেশী থেকে বেশী ক্বদর করার তৌফিক দান করুক। আমিন । যাযাকুমুল্লাহ