কাপাসিয়াবাসির স্বপ্ন পূরণ: সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ উদ্বোধন!

0
246

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ- কাপাসিয়া

গতকাল শনিবার কাপাসিয়ায় উদ্বোধন হয়েছে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ-এর উদ্বোধন। পূরণ হলো কাপাসিয়া  উপজেলার সাড়ে চার লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে, জনাব তানজীম আহমদ সোহেল তাজ (সাবেক এম.পি.ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) ও সভাপতি, বঙ্গতাজ কন্যা জনাবা সিমিন হোসেন রিমি।সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ

৫০ শয্যা বিশিষ্ট কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ

কাপাসিয়ার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র সরকারী হাসপাতাল হচ্ছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তার সাথে যোগ হতে যাচ্ছে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রাম গুলো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। তাই কেউ অসুস্থ্য হলেই তাদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে রোগির ভীড় সামলাতে ডাক্তার ও নার্সদের হিমসিম খেতে হয়। অসহায় লক্ষ মানুষের স্বপ্ন হলো নার্সিং কলেজ চালু হলে বর্তমানে কর্মরত নার্সদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশ নার্সদের কিছুটা হলেও বাড়তি সেবা পাবেন তারা। অপরদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় অনেকের পক্ষেই ঢাকায় গিয়ে নার্সিং পড়া সম্ভব হয় না। তারা এখন সরকারী খরচেই বিএসসি নার্সিং পড়ার স্বপ্ন দেখছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার ভিতরেই নির্মাণ হয়েছে কলেজটি। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে আশপাশে তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন উন্নত মানের দোকানপাট। ফলে এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দূর হবে অনেকের বেকারত্ব।

প্রাচীন ঢাকা জেলার এই কাপাসিয়া এখন গাজীপুর জেলায় অর্ন্তভুক্ত। যা প্রাচীনকালে এক সময় পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ, শ্রীপুর ও মনোহরদী নিয়ে একটি এলাকা ছিল তার নাম কাপাসিয়া। পরে এর সীমারেখা পরিবর্তন হয়। বর্তমানে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কাপাসিয়া উপজেলা। এটি ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যা নদীর দু’তীরে অবস্থিত। ১১টি ইউনিয়নের ৯৯টি ওয়ার্ড নিয়ে শালবনে ঘেরা ৩৫৭ কি.মি. জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ উপজেলা। কাপাসিয়ার উত্তরে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা, দক্ষিণে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে নরসিংদী জেলার মনোহরদী ও শিবপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা।
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ
কলেজের ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এটিসি জেবীর কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোকদম আলী জানান, ইতিমধ্যে এই কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন, ২তলা হোষ্টেল বিল্ডিং, ২তলা গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়াটার এবং একটি সাবষ্টেশনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এসে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ধীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদার করণ বিষয়ক অবহিত করণ কর্মশালা এবং সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা স্মার্ট কার্ড অগ্রগতি ও অবহিত করণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে কলেজের নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। কলেজটি খুবই দ্রুত চালু করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বঙ্গতাজ কন্যা কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দাবীর প্রেক্ষিতেই এই এলাকায় এ নার্সিং কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অচিরেই এর কার্যক্রম চালু হবে। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে কলেজটিকে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মীনি আওয়ামীগের দূরদিনের কান্ডারী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কাপাসিয়ায় নার্সিং কলেজ চালু হলে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হবে। দেশের দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই কলেজ। কলেজের পাশে ৫০ শয্যার হাসপাতালটির গুনগত মান এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমান সরকার একটা সুখি সমৃদ্ধিশালী সমাজ গড়তে চান। যেখানে মানুষ তার মৌলিক অধিকার গুলো পরিপূর্ণ ভাবে ভোগ করার সুযোগ পাবেন। স্বাস্থ্যসেবা সেই মৌলিক অধিকারের অন্যতম প্রধান উপাদান। কলেজটি চালু হলে তা অনেকাংশে পূরণ হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি যেমন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটাবে তেমনি ঘটবে মানব সম্পদেরও উন্নয়ন। বর্তমান সরকার পরিকল্পিত ভাবে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ করে যাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় এই নার্সিং কলেজ।
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ
নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের মহা পরিচালক তন্দ্রা সিকদার জানান, কলেজটি সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের নামে নামকরণ করা হয়েছে। কলেজের সেশন থাকবে ৪টি, প্রতি সেশনে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুযোগ থাকবে। এখানে বিএসসি ইন নার্সিং ডিগ্রী কোর্স চালু করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী এই কলেজ থেকে সুদক্ষ নার্স তৈরি করতে সক্ষম হব, যারা সারা বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ ইসমত আরা বলেন, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপের কারণে স্বাস্থ্য খাতের মান বৃদ্ধি পাবে এবং এখানে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা কাপাসিয়া উপজেলার বেকারত্ব লাঘবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ
কাপাসিয়া উপজেলা স¦াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুস ছালাম সরকার বলেন, নার্সিং কলেজের কার্যক্রম শুরু হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাও বাড়ানো হবে। হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের সংখ্যা বাড়বে। আমরা জানতে পেরেছি কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা করণের লক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। সবকিছু মিলিয়ে নার্সিং কলেজটি চালু হলে কাপাসিয়ার স¦াস্থ্য সেবায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সামিয়া সুলতানা জানায়, আমার বাড়ী কাপাসিয়া উপজেলার তাঁরাগঞ্জ এলাকায়। আমাকে ঢাকায় গিয়ে নার্সিং পড়তে হয়েছে যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। কাপাসিয়ায় নার্সিং কলেজ হওয়াতে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের নার্সিং পড়তে অনেক সুবিধে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামসুন্নাহার জানায়, আমরা দুই বোন এক ভাই আমার বড় বোনের নার্সিং পড়ার অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্ত ঢাকায় গিয়ে নার্সিং পড়তে হবে এ কারণে আমাদের পরিবার সম্মতি দেয়নি। এছাড়া আমারও নার্সিং পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। কাপাসিয়ায় নার্সিং কলেজ চালু হচ্ছে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সু-সংবাদ। আগামী শিক্ষা বর্ষে কলেজের কার্যক্রম শুরু হলে আমাদের ভর্তি হবার সুযোগ থাকবে।

কলেজের পাশে ডে-নাইট ফার্মেসীর মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানায়, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার, তার সাথে নার্সিং কলেজ চালু হচ্ছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ অধিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাবেন।