পৃথিবী ঘুরে দেখার বাসনা আমাদের সবার মনেই থাকে। কিন্তু যে জিনিসটা না থাকলে দেশের গণ্ডিই পেড়োনো যাবে না সেটি হচ্ছে পাসপোর্ট। ভ্রমণ, লেখাপড়া, ব্যবসা, চাকরি যে কারণেই হোক না কেন প্রতিদিনের অনেক প্রয়োজনীয় কাজকর্মে ব্যবহার হয় এ পাসপোর্ট। এজন্য আপনাকে পাসপোর্ট তৈরি করতেই হবে, তাই নিজের পাসপোর্ট (Passport) এর কোনো বিকল্প নেই। আজকে, পাসপোর্ট করার নিয়ম: কীভাবে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করবেন কোন ঝমেলা ছাড়া সেই ধাপ গুলা আলোচনা করবো।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম কোথায় পাবেন?
আবেদন ফরম পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় এবং আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরমের পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন। কিন্তু এখন ঘরে বসেই অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করা যায়। তাই আর ফরমের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না। তাই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ধাপ ১ঃ ব্যাংকে টাকা (পাসপোর্ট ফি) জমা দেয়া
হ্যাঁ, এটি প্রথম ধাপ অর্থাৎ ফরম পূরণের আগেই টাকা জমা দিতে হবে কারণ আবেদন ফরমে ঐ ব্যাংকের রিসিট নম্বর এবং ফি জমা দেয়ার তারিখ সংযুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাংকের শাখাতে আপনি পাসপোর্টের ফি জমা দিতে পারবেন। যেসব ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবেন সেগুলো হলো- সোনালী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক।
রেগুলার পাসপোর্ট সাধারণত ২১ মধ্যে পাওয়া যায়, এর জন্য ফি ৩৪৫০ টাকা। আর ইমার্জেন্সি বা আর্জেন্ট পাসপোর্ট পাওয়া যায় ৭ দিনের মধ্যে, এর জন্য ফি ৬৯০০ টাকা।

ধাপ ২ঃ ফরম পূরণ
আবেদন ফরম আপনি তিনভাবে পূরণ করতে পারবেন।
১/ হাতে লিখে ফরম পূরণ ।

২/ http://dip.portal.gov.bd/sites/default/files/files/dip.portal.gov.bd/forms/1814a4e6_495e_4dfa_b013_537f4cb297c0/Editable_MRP_Application_Form%5BHard%20Copy%5D_converted.pdf

এই লিংক থেকে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন। এই ফাইলটি এডিটেবল অর্থাৎ পিডিএফ ফাইলেই আপনি ফরমটি পূরণ করতে পারবেন। তবে পূরণ করার পর সেইভ করে রাখা যাবে না, তাই সাথে সাথেই প্রিন্ট করতে হবে। ফরম পূরণ হয়ে গেলে ফরমটি দুই কপি কালার প্রিন্ট করুন। ফরমের চারটি পৃষ্ঠা মোট দুইটি পাতায় প্রিন্ট হবে অর্থাৎ এপিঠ-ওপিঠ প্রিন্ট করতে হবে।

৩/ http://www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইট লিংকে গিয়ে সরাসরি ফরম পূরণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পূরণ করা শেষে ‘Save’ ও ‘Submit’ অপশনে ক্লিক করলে ফরমটি আর সংশোধন করার সুযোগ নেই। তাই সাবমিটে ক্লিক করার আগে সবকিছু ঠিক আছে কি না কয়েকবার যাচাই করে নিন। এবার আপনার কাছে একটি পিডিএফ ফাইল চলে আসবে, পরে প্রিন্ট করতে চাইলে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে রেখে দিন। অন্যথায় সাথে সাথেই প্রিন্ট করে নিন। দুই কপি কালার প্রিন্ট করতে হবে। অবশ্যই এপিঠ-ওপিঠ প্রিন্ট করতে হবে।

ফরম পূরণের নির্দেশাবলীঃ
১/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে প্রথমে একটি পেইজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার তালিকা আসবে। সেগুলো ভালোভাবে পড়ে “I have read the above information and the relevant guidance notes” অপশনে টিক দিয়ে এর ডানপাশে “Continue to online enrolment” অপশনে ক্লিক করতে হবে। এবার ফরমটি আসবে।

২/ লাল তারকা চিহ্নযুক্ত ঘরগুলো পূরণ বাধ্যতামূলক। অন্যান্য ঘরগুলো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূরণ করবেন, নাহলে করবেন না। কিছু পয়েন্টের ডানে প্রশ্নবোধক চিহ্নে দেখতে পাবেন সেটিতে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টের ব্যাখ্যা জানতে পারবেন।

৩/ সব বড় হাতের অক্ষরে পূরণ করতে হবে। নামের সংক্ষিপ্ত রূপের পরিবর্তে পূর্ণরূপে (যেমন –মোঃ/MD এর স্থলে মোহাম্মদ/MOHAMMAD)লিখা বাঞ্ছনীয়। মৃত ব্যক্তির নামের পূর্বে ‘Late’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। শিক্ষাগত বা চাকুরীসূত্রে প্রাপ্ত পদবিসমূহ (যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টর, পিএইচডি ইত্যাদি)
নামেরঅংশ হিসাবে পরিগণিত হবে না। এসব ক্ষেত্রে কেবল মূল নামটিই লিখতে হবে।
ফরমের ক্রমিক নং ৩ পূরণের ক্ষেত্রে, নামের একাধিক অংশ থাকলে প্রতি অংশের মাঝখানে একটি ঘর ফাঁকা রেখে পূরণ করতে হবে।

First Part of your Name (নামের প্রথম অংশ) A . H . M . N A Z M U L

Second Part of your Name (নামের শেষ অংশ বা বংশের নাম) A L A M

৪/ Passport Type-এর ঘরে ডানপাশের কম্বোবক্সে Ordinary, Diplomatic, Official এই তিনটি অপশন আছে। আমরা যারা সাধারণ জনগণ তাদের সবার জন্য এটি ‘Ordinary’ সিলেক্ট করতে হবে। সাধারণ পাসপোর্টের জন্য “ডেলিভারি টাইপ”-এর ঘরে ‘Regular’ আর জরুরী পাসপোর্টের জন্য ‘Express’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।

৫/ বার্থ আইডি নম্বরের ঘরে আপনার জন্ম সনদে উল্লেখিত রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি দিতে হবে।

৬/ Citizenship Status ঘরে আপনি কোনসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক সেই তথ্যটি দিতে হবে। অর্থাৎ জন্মসূত্রে হলে Birth, পিতৃত্ব বা মাতৃত্বসূত্রে হলে Parentage, স্থানান্তরসূত্রে হলে Migration, আবেদন করে পেয়ে থাকলে Naturalization এবং এদের কোনোটিই না হয়ে অন্য কিছু হলে সেক্ষেত্রে Others অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। তবে Others হলে আবির্ভূত নতুন ঘরে নাগরিকত্বের সূত্রটি টাইপ করে লিখে দিতে হবে।
আমরা সাধারণত সবাই ‘জন্মসূত্রে’ বাংলাদেশী।

Different Professions are Government Service, Semi-Government Service, Self-Government Service, Private Service, Business, Teacher, Doctor, Nurse, Housewife, Lawyer (not advocate), unemployed, etc.

৭/ Dual Citizenship এর ঘরে আপনি যদি দ্বৈত নাগরিকত্ব সুবিধা পেয়ে থাকেন তাহলে YES নতুবা NO সিলেক্ট করুন। Yes অপশন সিলেক্ট করলে আপনি যে দেশের নাগরিক সেই দেশের নাম ও আপনার উক্ত দেশের পাসপোর্ট নম্বর দিতে হবে।

৮/ Old Passport Information-এর ঘরগুলো কেবল পূর্বে পাসপোর্ট করে থাকলে সেক্ষেত্রে তার তথ্যগুলো দিতে হবে।

৯/ Payment Type-এর ঘরে ‘Non-Online’ অপশনটি সিলেক্ট করুন; যেহেতু আপনি সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়েছেন। ব্যাংকে ফি জমা দেয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে আবেদনপত্রে ও ব্যাংক রশিদে আবেদনকারীর নাম, টাকা জমা দেয়ার পরিমাণ, রেফারেন্স নম্বর, ব্যাংকের নাম একই থাকে। নতুবা তা Payment investigation-এ আটকে থাকবে।

১০/ ক্রমিক নং ২৪ এ আবেদনপত্রের সাথে যেসব দলিলাদি সংযুক্ত করে জমা দিবেন সেসব ঘরে টিকচিহ্ন দিতে হবে।

১১/ সরাসরি অনলাইনে ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সবশেষে ফরমটির পিডিএফ ফাইলটি প্রিন্ট করার পর প্রথম পৃষ্ঠায় ক্রমিক নং ১ -এর ঘরে আবেদনকারীর নিজের নাম হাতে বাংলায় লিখতে হবে।
১২/ মনে রাখবেন, আপনার অনলাইনে সাবমিট করা ফরমের তথ্য ১৫ দিন ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। তাই অবশ্যই অনলাইনে ফরম পূরণের ১৫ দিনের মধ্যে তা পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে যেতে হবে।

বিঃদ্রঃ-হাতে লিখে ফরম পূরণ অনলাইনের আবেদনের নির্দেশনা মতই হবে , শুধু পার্থক্য হল এখানে হাতে লিখতে হবে আর অনলাইনে হলে কম্পিউটারে টাইপ করতে হয় বা হাতে লিখে পূরণ করতে হবে ।

ধাপ ৩ঃ ফরম জমা দেয়ার পূর্ববর্তী কাজ
• এখন ব্যাংকের রিসিট একটি ফর্মে ও রিসিটের ফটোকপি আরেকটি ফর্মে আঠা দিয়ে সংযুক্ত করতে হবে । রিসিটের উপরের অংশে আঠা লাগিয়ে তা পাসপোর্ট আবেদন ফর্মের ১ম পৃষ্ঠার ছবির স্থানের নিচে লাল কালিতে লেখা সতর্কতা মূলক অংশের উপর সংযুক্ত করুন ।

• সকল পেশার মানুষের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি ২টি আবেদন পত্রের সাথে সংযোজন বাধ্যতামূলক । পেশার ভিন্নতার জন্য এর সাথে কয়েকটি কাগজ যুক্ত করতে হয় , যেমন
— পেশা ছাত্র হলে শুধুমাত্র SSC certificate এর সত্যায়িত ফটোকপি (student id card দরকার নেই )
– পেশা ব্যবসায়ী হলে টি আই এন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (ssc certificate ফটোকপি দরকার নেই )
— পেশা Private service হলে NOC চাকরি প্রমান সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করতে হয়।
— আর পুরাতন পাসপোর্ট Renew করতে হলে তার প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠার সত্যায়িত ফটোকপি।

• অর্থাৎ STUDENT পেশার পাসপোর্ট করতে হলে হলে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি/ জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপির সাথে SSC certificate এর সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করলেই আবেদন পত্রটি সম্পুর্ণ হয়ে যায় ।

• জন্ম নিবন্ধন সনদটি অনলাইন ভিত্তিক হতে হবে অর্থাৎ জাতীয় ডাটাবেজে আপনার জন্ম সনদটি আপলো করা থাকতে হবে। যেন পাসপোর্ট অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্চ দিলে আপনার ওই নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়।

• অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাবা ও মায়ের একটি করে রঙিন ছবিও লাগবে যা আবেদন পত্রের প্রথম পৃষ্ঠার উপরের ডান পাশে নির্ধারিত স্থানে আঠা দিয়ে লাগাতে হয় । —–এসব ধাপ শেষ করলে ফর্মটি জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

ধাপ ৪ঃ ফরম জমাদান
আবেদন ফরমটি সঠিক ভাবে পূরনের পর আপনার নিজ জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস-এ নিজে গিয়ে জমা দিতে হবে। এই লিংকে গিয়ে দেখে নিতে পারেন আপনার জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এর ঠিকানা http://www.dip.gov.bd/site/page/6085c0b9-973b-4c49-9f83-f57a78cffd15/- ।

যদি আপনার বর্তমান ঠিকানা ঢাকাতে হয় তাহলে আপনি ঢাকায় অবস্থিত পাসপোর্ট অফিস-এ আবেদন করতে পারবেন, আবেদনকারীকে নিজ নিজ থানার জন্য নির্ধারিত অফিসে আবেদন করতে হবে ।

অফিসের নাম অধিনস্থ থানা
বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস,
আগারগাঁও ,ঢাকা। মতিঝিল, পল্টন, রামপুরা, মিরপুর, দারুস সালাম, শাহআলী , পল্লবী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শোরে বাংলা নগর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, রমনা, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল, গুলশান, ধামরাই, সাভার, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীচর, বংশাল, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা , বনানী, শাহজাহানপুর, ভাষানটেক ও ঢাকা রেলওয়ে।

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উত্তরা, ঢাকা।
বাড্ডা, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিনখান, তুরাগ, শাহজালাল বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, আশুলিয়া ও ভাটারা।

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
সবুজবাগ, ডেমরা, শ্যমপুর, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, খিলগাঁও, কোতোয়ালী, গেন্ডারিয়া, সুএাপুর, দোহার, নাওয়াবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা, ওয়ারী ও মুগদা।

ফরম জমা দেয়ার নির্ধারিত দিন পাসপোর্ট অফিসে খুব সকাল সকাল যাওয়াই উত্তম কারণ অনেক ভীড় হয়ে থাকে। সরাসরি আপনার ফরম সাথে নিয়ে উপস্থিত সেনা সদস্যকে জানান আজ আপনার ছবি তোলার দিন নির্ধারিত আছে। তিনি আপনাকে দেখিয়ে দিবে কোথায় ফরম সহ আপনাকে যেতে হবে। অবশ্যই সাদা পোশাক পরবেন না, ফরমাল পোশাক পরিধান করে যাবেন।

সেদিন আপনার ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া ইত্যাদি কাজ করা হবে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে পুলিশ ভেরিফিকেশন। যদি আপনার স্থায়ী আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয়, তবে দুই জায়গাতেই পুলিশ ভেরিফিকেশান হয়ে থাকে।

ধাপ ৫ঃ পাসপোর্ট সংগ্রহ
প্রোসেসিং চলার মাঝেই আপনার কাজ হয়ে গেলে মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস থেকে। এটি আপনার পাসপোর্ট বুঝে নেয়ার তারিখ। আপনি নির্ধারিত সময়ে গিয়ে পাসপোর্টটি বুঝে নিয়ে আসুন। এছাড়া কারো কোন প্রশ্ন থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি আমার পক্ষ থেকে যতটুকু পারি সাহায্য করবো।

Facebook Comments