ফকির আব্দুল মান্নান কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান!

312

ফকির আব্দুল মান্নান ১৯০১ইং সালের পহেলা জানুয়ারী গাজীপুর (বৃহত্তর ঢাকা) জেলার কাপাসিয়া থানার ঘাগটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতার নাম আলহাজ্ব ফকির আব্দুল ওয়াহাব ও মাতা মোছাম্মৎ রুছমুতেন নেছা।
শিক্ষাজীবনঃ
গ্রামের মাদ্রাসায় দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯২৫ সালে মেট্রিকুলেশন, ১৯২৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯২৯ সালে স্নাতক এবং ১৯৩৪ ইং সনে আইন ডিগ্রী (বি.এল) পাশ করেন।ফকির আব্দুল মান্নান
কর্মজীবনঃ
স্নাতক ডিগ্রী লাভের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৩৪ সনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার আলীপুর জজ কোর্টে ওকালতি জীবন শুরু করেন। ১৯৩৫ সনে ঢাকা ফিরে আসেন এবং ঢাকার জজকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। ১৯৫১ সনে তিনি ঢাকার হাইকোর্টের এডভোকেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩৪ সন থেকে ১৯৯৩ সন পর্যন্ত তিনি ওকালতি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৩৬ ইং সনে তিনি কৃষক প্রজা পার্টির সদস্যভুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৪৬ ইং সনে তিনি মুসলিমলীগের প্রার্থী হিসেবে এম এল এ নির্বাচিত হন। তিনি পাকিস্থান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৬-১৯৫৪ ইং সন পর্যন্ত তিনি পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (এম এল এ) সদস্য ছিলেন। ১৯৫৩ -১৯৫৮ ইং সন পর্যন্ত তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্থান মুসলীম লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন পরবর্তীতে ১৯৬৫-১৯৬৯ সন পর্যন্ত সভাপতি হিসবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৪ সনের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের নিকট পরাজিত হন।

১৯৬৫ সনে তিনি পূর্ব পাকিস্থান মন্ত্রী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৯ সন পর্যন্ত কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। ঢাকা জেলা কারাগার পরিদর্শন কমিটির সদস্য ছিলেন। কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ, সেন্ট্রাল গার্লস স্কুল (লক্ষ্মী বাজার ঢাকা) তেজগাও পলিটেকনিক হাই স্কুল (ফার্মগেট, ঢাকা), বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ (জয়কালী মন্দির, ঢাকা), ঘাগটিয়া চালা উচ্চ বিদ্যালয় সহ অন্যান্য বহু স্কুল মাদ্রাসা কাপাসিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন। কাপাসিয়া এসোসিয়েশন এর সভাপতি ছিলেন। তিনি তেজতুরি বাজার জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা বার সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে উনি সত্যনিষ্ঠা, কর্মঠ, ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ন লোক ছিলেন। তিনি তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। ছেলেদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আসম হান্নান শাহ ছিলেন সবার বড়। তিনি ১৯৯১-১৯৯৫ সালে বিএনপির শাসনামলে পাটমন্ত্রী ছিলেন ।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং সনে ভোর সাড়ে ৫টায় সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হার্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মেঝ ছেলে শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের জৈষ্ঠ বিচারক ছিলেন। উনাকে দু’বার সুপারসিট করে জুনিয়র প্রধান বিচারপতি করায় উনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি বাবার কবরের পাশে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন।ছোট ছেলে মোবারক শাহ যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকের জৈষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। বড় মেয়ে মৃত এডভোকেট আনোয়ারা ইদ্রিস ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের চাচী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রথম নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বড় মেয়ে এড ফকির আনোয়ারা ইদ্রিস এর এক মাত্র ছেলে নেয়ামত এলাহী সর্বশেষ ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।ছোট মেয়ে ডাঃ আঞ্জুমান আরা বেগম মিনু ঢাকার মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন বর্তমান আমেরিকা প্রবাসী।

মৃত্যুঃ তিনি ৩১/১০/১৯৯৩ ইং সনে ৮৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ তেজগাও ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

তথ্যসূত্রঃ ঘাগটিয়া চালা উচ্চ বিদ্যালয়
ফকির শামসুল হক মিঠু (হান্নান শাহ্ এর ভাতিজা)
ছবিপ্রাপ্তিঃ ইব্রাহীম খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক কাপাসিয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দল।