বরকতের চাবিসমূহ- আলোচকঃ শায়খ আহমাদুল্লাহ

0
489

বরকতের পরিচয়ঃ

বরকতের চাবিসমূহ- বরকত অর্থ হল কল্যান বেশী হওয়া। আল্লাহর পক্ষ থকে কল্যান যুক্ত হওয়া। এটা হল বরকত। দুনিয়ায় যে কোন বস্তুতে যখন আল্লাহ সুবহাবনাহজু ওয়া তালায় পক্ষ থেকে কল্যান যুক্ত হয় তখন তা কল্যানকর হয়ে যায়, উপকারী হয়ে যায়, তখন সেট পরিমানে অল্প হলেও আমাদের জন্য তা অনেক বেশী উপকার বয়ে আনে। অনেকে অনেক দীর্ঘ হায়াত পেয়েছেন কিন্তু কোন কিছুকরতে পারেন নাই এর মানে বরকত নাই। অনেকে অনেক সম্পদ কামাই করেছেন কিন্তু কোন হিসাব খুজে পাচ্ছেন না, তারমানে সম্পদে বরকত নাই।

অনেকে দেখা যায় অনেক কাজ বা পরীশ্রম করেছেন সেই অনুপাতে ফলাফল পাচ্ছেন না তাহলে বুঝা যায় বরকত নাই। এর বিপরীত ও রয়েছে অনেকে অল্প কামাই করেছে মা শা আল্লাহ এর ভিতরে সে অনেক কিছু করে ফেলেছে। তার উপার্জনে বরকত ছিল। এই উপার্জনে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যন যুক্ত ছিল। অতএব আমাদের ঈমানে আমলে, রুজিতেআমাদের ইনকামে আমাদের সন্তান সন্তুতিতে আমাদের সব কিছুতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালা পক্ষ থেকে বরকত আসবে। এজন্য বেশ কিছু আমল রয়েছে। যেগুলোকে আমরা বলতে পারি বরকতের দশটি চাবি। এই চাবিগুলো যদি আমরা নিয়মিত ব্যবহার করি থাহলে আমাদের জীবন বরকতময় হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।বরকতের চাবিসমূহ

এক নম্বর চাবিঃ

ঈমান ও তাকওয়া। যখন কারো মধ্যে ঈমান ও তাকওয়া থাকে তখন তার প্রতি আল্লাহতালার বরকতের বারিধারা বর্ষন হতে থাকে। আল্লাহ তালা কোরআন এর মধ্যে বলেছেনঃ যখন কোন জনপদের লোকেরা ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে তাহলে আমি আসমান থেকে এবং জমিনের সকল দুয়ার খুলে দিব। এজন্যই  ভাইয়েরা প্রৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের মানুষদের দেখে মনে হয় তারা অনেক আরামে সুখে শান্তিতে বসবাস করতেছে বলে মনে হয় কিন্তু বিভিন্ন তথ্য জরিপে তাদের মধ্যে আত্নহত্যা ও সুইসাইডের পরিমান অনেক বেশী।

আত্নহত্যা মানুষ তখনই করে যখন সুখের চেয়ে দুঃখের পরিমান বেশী থাকে। আমাদের মুসলমানদের মধ্যে আত্নহত্যার পরিমান কম। মুসলমানরা বেশীরভাগই গরীব ও অভাবী তবুও তাদের মধ্যে আত্নহত্যার পরিমান কম।এটা একটা আলামত যে তাদের জীবনে বরকত আছে। আর যার জীবনে ঈমান নেই দেখা যায় সে অনেক বড় অট্টালিকায় আছে, সুখে শান্তির অনেক উপকরন তার রয়েছে কিন্তু আসলে সুখে শান্তিতে বেশী একটা নেই। এজন্যই কেউ যদি ঈমান আনে আর তাকওয়া অবলম্বন করে, এ দুটি জিনিস যদি কারো ভিতরে থাকে তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা আসমান ও জমিন থেকে বরকতের ধারা খুলে দিবেন। এজন্য ঈমানকে খালেস করতে হবে । শিরক, কুফরি, নেফাকী থেকে ঈমানকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে, আর তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে।তাকওয়া হল আল্লাহর ভয়ে যে কোন হারাম কাজ থেকে নিজেকে বিরত থাকা। যার ভিতরে হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার মানসিকতা থাকবে, এই শক্তি যার মধ্যে বেশী থাকবে আল্লাহ তার জীবনকে তত বেশী বরকতময় করে দিবেন।

দুই নম্বর চাবিঃ

যে কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। নবী(সঃ) বলেছেন তোমাদের মধ্যে যখন খানা শুরু করে তখন যদি সে বিসমিল্ললাহ বলে তখন শয়তান তার খাবারে শরীক হতে পারে না, সে ভাগ বসাতে পারেনা।সে যেই টুকু খায় সেইটুকুতে বরকত তবা কল্যান বয়ে আনে। অনুরূপভাবে যদি কেউ ঘরে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলে তাহলে শয়তান তার সাথে যোগ দিতে পারেনা । অনুরূপভাবে বান্দা যখন ভাল প্রত্যেকতা কাজে  বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে তখন শয়তান অংশ নিতে পারেনা । ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সেখানে বরকত আসা সহজ হয়ে যায় এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং বিসমিল্লাহ এর পরিমান বেশী বলা।

তিন নম্বর চাবিঃ

কোরআন এর সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানো। যে যত বেশী কোরআন পড়বে ,বুঝবে,ঘরে চর্চা করবে, তার জীবন তত বরকতময় হবে।আল্লাহ তালা বলেনঃ এ কোরআন বরকতময়। রাসূল (সাঃ) বলেন আল্লাহ এই কোরআন দিয়ে বহু মানুষকে উপড়ে তুলবেন,আর বহু মানুষকে নিচে নামাবেন।

চার নম্বর চাবিঃ

বেশী পরিমানে দান সদকা করা। দান সদকা করলে বহু বিপদ আপদ দূর হয়ে যায়। আমাদের কল্যান না আসার অন্যতম কারন হল বিপদ আপদ। দানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, অল্প আয় থেকে দান করুন্তাহলে বিপদ আপদ দূর হয়ে গেলে আল্লাহরত পক্ষ থেকে বরকত চলে আসবে ইনশাল্লাহ।

পাঁচ নম্বর চাবিঃ

আত্নীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক ভাল রাখা । এইটা বহু পরীক্ষিত একটা আমল। যে যত বেশী আত্নীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক ভাল রাখে।মা বাবা, ভাইবোন, চাচা ফুফু তাদের লোকজন অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কের লোকজনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখে, সম্পর্ক নষ্ট করেনা। তারা যদি খারাপ ব্যবপহার করে তাহলে তারা এর বিপরীতে ভাল ব্যবহার করে। তাদের খোজ খবর নেওয়া, বিপদে আপদে, সুখে দুঃখে পাশে দাড়ানোর মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করে। আল্লাহ তালা তখন বরকত দান করেন। এইটা পরীক্ষিত বিষয়।

ছয় নম্বর চাবিঃ

ভোরে ভোরে কাজে যাওয়া। নবী(সঃ) দোয়া করেছেন আল্লাহ আপনি আমার উম্মতকে সকাল বেলা বরকত দান করবেন।অন্য একটি রেওয়াতে এসেছে আম্মার উম্মতের জন্য সকাল বেলা বরকত দেওয়া হয়েছে। অতএব সকাল বেলা যদি আপনি ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে বরকত কোথা থেকে আসবে? সকাল বেলার ঘুম কিন্তু প্রশংসনীয় কিছু নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ও নয়। এই টাইমটাতে কাজ করতে হবে। কিছু কিছু পেশা আছে যে গুলা সকাল বেলা শুরু  করা সম্ভব হয়। সেক্ষেত্রে সকাল থেকে প্রস্তুতি নেওয়া । সকাল সকাল যদি কোন কাযে বের হওয়া যায় তাহলে আশা করা যায় বরকত আসবে।

সাত নম্বর চাবিঃ

নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে এবং পরিবার পরিজন কে নির্দেশ দিতে হবে।  যদি নিজে নামাজ পড়ে কিন্তু পরিবার পরিজন পড়ে কিনা খোজ খবর রাখেনা। আল্লাহ বলেন-তুমি তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং এর উপর অটল থাক।আমি তোমাদের নিকট রিজিক চাইনা, বরং আমি তোমাদের রিজিক দান দিব।

আট নম্বর চাবিঃ

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা, ভরসা করা। মুমিন যত বেশী আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহ তাকে ততবেশী সাহায্য করবেন। আল্লাহর প্রতি ভরসা কমে যখন দুনিয়ার কোন বস্তুর প্রতি আশা ভরসা বেশী হবে আল্লাহ তখন ওই বস্তুর হাতেই তাকে বেইজ্জতি করে ছাড়েন। এটাই আল্লাহ তালার সুন্নাহ। নবী (সাঃ) বলেন আল্লাহর উপর যেই রকম আস্থা রাখার দরকার সেইরকম আস্থা যদি রাখতে পারতে তাহলে আল্লাহ তালা পাখিকে যেমন রিযিক দেন তোমাদের সেইভাবে রিযিক দিবেন। সকালে পাখিরা খালি পেটে যায় কিন্তু সন্ধ্যায় ভরাপেটে ফিরে। আল্লাহর ভরসা যতবেশী হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ততবেশী সাহায্য আসবে।

নয় নম্বর চাবিঃ

বেশী বেশী ইস্তেগফার পড়া। আস্তাগফিরুল্লাহ, অথবা আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি পড়া। যে যত বেশী ইস্তেগফার পড়বে ততই অকল্পনীয় রিযিক আসবে। আল্লাহ সম্পদ সন্তান দান করবেন। সকল সংকট থেকে উত্তরনের ব্যবস্থা করে দিবেন। বরকতের জন্য নিয়মিত ইস্তেগফার বেশী বেশী পড়তে হবে।

দশ নম্বর চাবিঃ

পরিপূর্ণ সালামের ব্যপক প্রচলন ঘটাতে হবে, সালাম দিতে হবে। সালামের পরিপূর্ণরূপ হল  আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। যদি কারো জন্য দোয়া করা হয় তাহলে ফেরেশতারা ও তাদের জন্য দোয়া করেন।