ক্রিকেটখেলাধুলা

বিশ্বের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম হবে পূর্বাচলের স্টেডিয়াম!

পূর্বাচলে প্রস্তাবিত ক্রিকেট স্টেডিয়াম নিয়ে দোটানা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। সরকারের কাছ থেকে স্টেডিয়ামের জমি কিনে নিয়ে নিজ অর্থায়নে কাঠামো নির্মাণ করতে চায় বিসিবি। এই প্রক্রিয়া এখনও বেশ জটিল অবস্থায় থাকলেও বিসিবি অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, পূর্বাচলের এই স্টেডিয়ামটি হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সেরা একটি স্টেডিয়াম।

পাপন বলেন, ‘আমরা এটা বিশ্বসেরা হওয়ার জন্য করতে চাই। স্টেডিয়ামটি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উৎকর্ষতার কেন্দ্র। এর ধারণক্ষমতা হবে কমপক্ষে ৫০ হাজার। আমরা জমির জন্য অপেক্ষা করছি। যত তাড়াতাড়ি জমি পাবো, ততো তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করে দেব। এটা বাংলাদেশের সেরা ভেন্যু হবে।

পূর্বাচলে স্টেডিয়াম হলে মিরপুরের কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আমাদের কাছে আরেকটি বিকল্প থাকবে। মিরপুর খুবই পুরোনো। এখানে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হবে। নতুন স্টেডিয়াম হবে একেবারেই আধুনিক ও মূল আকর্ষণ। কিন্তু মিরপুরেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।’

পূর্বাচলে অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছ থেকে যে ৩৭.৫০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, তার পুরোটাই নিতে চাচ্ছে বিসিবি। দেশের সবচেয়ে ধনাঢ্য এ ক্রীড়া সংস্থা নিজেদের মতো করেই সেখানে ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা নেয়। যদিও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিসিবিকে দিতে চেয়েছিল ১৭ একর জমি। বাকি ২০.৫ একর জমিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে একটি কমপ্লেক্স তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল।

ক্রিকেট বোর্ডকে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ১৭ একর জমি দিয়ে বাকি জায়গায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত বছর ৩০ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি সভায় দেয়া অর্থমন্ত্রীর ওই প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্টেডিয়াম নির্মাণের সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। অন্যদিকে বিসিবি নিজেদের উদ্যোগে স্টেডিয়াম নির্মাণের ইচ্ছের কথাও জানায় সরকারকে।

জমি নিয়ে দুই পক্ষের টানাটানির কারণে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নিয়ে নতুন করে সারসংক্ষেপ পাঠাতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। জমি পাওয়ার ব্যাপারে বিসিবি আশাবাদী হলেও শেষপর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়!

তথ্যঃ বিডিক্রিকটাইম

Facebook Comments
Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close