ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক- দর্শনীয় স্থান, গাজীপুর

167
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান- গাজীপুর

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ। এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। রাজধানী শহরের অতি নিকটবর্তী হওয়ায় উদ্যানটিতে প্রচুর দর্শনাধীর চাপ লক্ষ করা যায়। বিশেষত শুস্ক মৌসুমে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) প্রচুর লোক এখানে পিকনিক করতে আসে। সরকারী তথ্য মতে প্রতি বছর প্রায় ৩,৭৫,০০০ দর্শনার্থী এখানে আসেন। এ বনের উপর প্রায় ৫,০০০ এর ও বেশী লোক তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। এটি একটি ক্রান্তিয়, আদ্র পর্ণমোচী বৃক্ষের বন। এখানকার মুল প্রজাতি হলো শাল। মুল কর্তিত গাছ থেকে পুনরায় গজানোর গুন থাকায় এগুলোকে গজারী বন ও বলা হয়। এখানকার বর্তমান শাল বন মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ভূক্ত শালবন। যা কপিছ থেকে উৎপন্ন। এ বনে প্রায়ই ১০ প্রজাতরি স্তন্যপায়ী প্রাণী ৬ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরিস্প এবং ৩৯ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বন্যপ্রাণীর মধ্যে গন্ধগোকুল, গেকশিয়াল, বাঘদাস, খরগোস, সজারু, বেজী ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। গুইসাপ, অজগর, কচ্ছপ ইত্যাদি প্রধান সরিসৃপ। এখানে প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছ দেখা যায়।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান- গাজীপুর

এখানে বন বিভাগের বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট ও রেষ্ট হাউস রয়েছে। বন বিভাগের পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষে এসব রেষ্ট হাউস দিনের বেলায় ব্যবহার করা যায়। শুস্ক মৌসুমে পিকনিক করতে চাইলে বেশ আগে থেকেই বুকিং দিতে হয়। ঢাকা থেকে এ জাতীয় উদ্যানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। উদ্যানটি ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাথেই অবস্থিত। ঢাকার মহাখালী হতে ময়মনসিংহ অভিমুখে যেকোন বাসে এ উদ্যানে যাওয়া যায়। এছাড়া ভাড়া করা গাড়ী নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ও গাজীপুর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে জয়দেবপুরে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত। গাছগাছালিতে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হলো শাল। প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছপালা আছে এ বনে। এর মধ্যে ৪৩ প্রজাতির বিভিন্ন রকম গাছ, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির পাম, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৪ প্রজাতির লতা, ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। জীব বৈচিত্র্যেরও কমতি নেই এ বনে। প্রায় ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এ বনে।
এ ছাড়া ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বনভোজন কেন্দ্র।
এগুলোর নামও বেশ মজার। আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন আরো কত বাহারি নামের বনভোজন কেন্দ্র । এখানকার কটেজগুলোও বাহারি নামের। বকুল, মালঞ্চ, মাধবি, চামেলী, বেলী, জুঁই ইত্যাদি। নামের মতো এগুলোর পরিবেশও ভিন্ন আমেজের। পিকনিক স্পট কিংবা রেস্ট হাউস ব্যবহার করতে হলে বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় থেকে আগাম বুকিং দিয়ে আসতে হয়।
টিকেট মূল্যঃ
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৬ টাকা। প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রোবাস নিয়ে প্রবেশ করতে লাগবে ৩০ টাকা আর মিনি বাসের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা।
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে চড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনেই নামা যায়। এ ছাড়া ঢাকার গুলিস্তান থেকে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি বাস চলে এ পথে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। নিজস্ব বাহনে গেলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহের দিকে কিছু দূর চলতে হাতের ডানে পড়বে এর প্রধান প্রবেশপথ।
কোথায় থাকবেনঃ
ঢাকার খুব কাছে হওয়ার কারনে আপনি দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন, তাই আপনাকে থাকা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হচ্ছে না। তারপরও গাজীপুর জেলার যে কোন আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করা যাবে।