উপজেলাগাজীপুররেসিপি

আওরাখালি মজিদ মিয়ার হোটেলে সুস্বাদু ২০ প্রকারের দেশীয় বিলের মাছ!

আওরাখালি মজিদ মিয়ার হোটেল

৫ ই নভেম্বর শনিবার, সকাল দশটায় ফোন দিলাম কাপাসিয়ার সাইফুল ভাইকে, যিনি এই হোটেলের নিয়মিত কাষ্টমার, ফেসবুকে উনার মাধ্যমে এই হোটেলের সন্ধান পাই। জিজ্ঞেস করলাম ভাই কিভাবে ঐখানে যাওয়া যায়? উনি বললেন যে গাজীপুর থেকে সিএনজি পাওয়া যায়, সিএনজি থেকে নামলেই আওরাখালি ব্রিজ, ব্রীজের ঐপাড়ে বাজারে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে মজিদ মিয়ার হোটেল।

উনার কথামত বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা থেকে ভি আইপি তে উঠে রওনা দিলাম। গাজীপুর শিববাড়ী নেমে রিকশায় আসলাম ডিসি অফিস অর্থাৎ রাজবাড়ী মাঠের সামনে। আসতেই দেখলাম সিএনজি ডাকছে আওরাখালি, উঠে পড়লাম সি এনিজিতে কম সময়ের মধ্যে পৌছালাম আওড়াখালি । ৫০/- টাকা ভাড়া দিয়ে নেমে, ছাতা মাথায় দিয়ে কাঁদে ব্যাগ নিয়ে হাটা শুরু করলাম। মিনিট পাঁচেক হাটার পর একজনকে জিজ্ঞেস করলাম হোটেল টি কোনদিকে উনি দেখিয়ে দিলেন মজিদ মিয়ার হোটেলটি ।

মজিদ মিয়ার হোটেলে
সুস্বাদু দেশীয় বিলের মাছ

সাইফুল ভাই (নির্দেশক)
আসা মাত্রই অবাক! দেখলাম টিনের ঘরের একটি হোটেলে কাষ্টমারের মোটামুটি ভাল ভিড়। সালাম দিলেন একজন, টিউবওয়েল থেকে হাত মুখ ধুয়ে বসলাম । একপ্লেট ভাত প্রথমে এনে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি কি মাছ খাব? আমি বললাম ভাই যা যা মাছ আজ আছে এনে দেন। একেক পদের আইটেম আসতে থাকল আমিও ভোজন প্রেমি বলে খেতে থাকলাম। কয় প্রকারের মাছ যে ঐদিন খেলাম তা হিসেব করি নাই, তবে ১০-১২ প্রকারের তো হবেই, ডিস ভর্তি ভাত আর এত মাছ খেয়ে আমি অনুমান করলাম বিল আসবে নিম্নে ৪০০-৫০০/- টাকা। যখন বিল জিজ্ঞেস করলাম বলল ২০০/- টাকা দেন। আমিতো রিতিমত খুশি। আমাকে সাইফুল ভাই বলেছিল ৪-৫ জনের গ্রুপ করে গেলে ভালই খাওয়া যায় অনেক বেশি দেয় একলা যেহেতু যাইতেছেন তাই বইলা কম খাওয়াইত না। তখন উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ভাই খরচ কেমন হতে পারে ভাই বলল আমরা যদি ৪-৫ জন যাই তাহলে বিল আসে ৮০০-৯০০ বা ১০০০/- এইরকম ।
তারপর পরিচিত হলাম হোটেলটি যিনি পরিচালনা করেন উনার সাথে আফজাল ভাই উনার সাথে কথা বললাম।

উনি জানালেন ২০০১ সালে আমার বাবা আব্দুল মজিদ খাঁন এবং সাথে আমরা দুই ভাই আফজাল হোসেন খাঁন, মোফাজ্জল হোসেন খাঁন একত্রে বাবার নামে হোটেলটি চালু করি। প্রাথমিক অবস্থায় ভাত, মাছ, মাছের তরকারী রান্না করলেও এখনকার মত এত সাড়া ছিল না। এই হোটেলটি যেহেতু গ্রাম এলাকায় অবস্থিত সাধারণত গ্রামের মানুষ কমই আসেন।

বেশী কাষ্টমার আসেন এলাকার বাইরে যেমন বিভিন্ন উপজেলা থেকে, গাজীপুর, জয়দেবপুর, কাপাসিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চল দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। ধৈর্য্য সহকারে নিজেরা পরিচালনা করার কারনে ১২-১৩ বছর পর অর্থাৎ আড়াই বছর যাবত আলহামদুলিল্লাহ ভাল সাড়া পাচ্ছেন।
বিভিন্ন যায়গা থেকে গুনী-ব্যাক্তিগন আসেন খাওয়া দাওয়া করেন । এসিল্যান্ড, মেজিষ্ট্রেট স্ব-পরিবারেও গিয়ে খাওয়া দাওয়া করে থাকেন।অনেকে সন্তুষ্টচিত্তে জোড়পূর্বক বকশিষ ও দিয়ে যান যা উনি নিতেও চাননা। উনি বলেন যে, যারা আমাদের এখানে আসে তারা আমাদের মেহমান।তাদের জন্য উদারভাবে মেহমানধারী করা আমাদের দায়িত্ব।

আমরা টাকার দিকে তাকাই না যারা আসেন তারা যাতে সন্তুষ্ট হয় সেইটা আমরা চাই। ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের এখানে অনেকে আসে। আমরা সকাল বেলা বাজার থেকে মাছ কিনি, বিশেষ করে বেলাই বিলের মাছ। তারপর দুই-তিন জন মহিলা আছে সকালে তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার করে রাখি। কাষ্টমার/মেহমান আসলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সামনে ভাজি করে দেই। আমিও তাই দেখলাম আমি যাওয়ার পর আমার সামনে ভাজি করে এনে দিল সাথে দিল দেশী লেবু, টমেটু, আর ক্ষিরা/শশার সালাত। তবে মাছ ভাজার জন্য কিছু সময় দিতে হয়, যদি বেশী কাষ্টমার যদি থাকেন সেক্ষেত্রে। তবে যারা একবার খেয়েছেন তারা পরেরবার আসার চিন্তা করবেন এইটুকুই বলতে পারি।

এখানে উনারা যেই সকল প্রকারের দেশীয়, বিলের মাছ মাছ বিক্রি করেন তাহল:

চিংড়ি মাছ, মলা মাছ, টেংরা মাছ, পুটি মাছ, কই মাছ, শিং মাছ, মাগুড় মাছ, ফইল্লা মাছ, ভেড়া মাছ, রুই মাছ, চান্দা মাছ, গুতুম মাছ, বাইম মাছ, কারফু মাছ, আইল মাছ, পাবদা মাছ, শৈল মাছ।

আপনি নিয়মিত ১৫-২০ প্রকারের মাছ পাবেন এখানে। উনারা সামাজিক বিভিন্ন খেলাধূলা ও বিভিন্ন ভাল কাজে মানুষকে সহায়তা করে থাকেন যাতে উনারা আলাদা আনন্দ পেয়ে থাকেন।

কিভাবে আসবেনঃ
ঢাকা থেকে গাজীপুরের বাসে উঠবেন, গাজীপুর চৌরাস্তা নেমে ট্যাম্পু দিয়ে রাজবাড়ী আসবেন। যদি ভিআইপি দিয়ে আসেন ভাড়া নিবে ৭০/-টাকা শিববাড়ী নেমে রিকশায় ১৫-২০ টাকা ভাড়া দিয়ে রাজবাড়ী আসতে পারবেন। রাজবাড়ী মাঠ থেকে সি এন জি পাওয়া যায়, ভাড়া নিবে ৫০/-টাকা।

Facebook Comments
Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close