সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাঙ্গালিদের বর্ষবরন!

0
120

প্রবাসী বাঙালীরা বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারন করে বেঁচে থাকে। ফেলে আসা জন্মভুমি, শৈশব, বেড়ে উঠা, বাংলার মাটির গন্ধ, বন্ধন ভেতরে ভেতরে কাঁদায় এঁদের। প্রবাসীদের এই ভালবাসা স্বদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের থেকে কোন অংশে কম নয়। আর তাই বাংলাদেশি যে কোন বিশেষ দিনগুলোতে সেই ভালবাসার উদ্গীরন পরিলক্ষিত হয়, উদযাপিত হয় ঘটা করে।
সেদিন প্রবাসটা হয়ে যায় আরেক বাংলাদেশ। তেমনিভাবে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ও সামাজিক বৈষম্য ভুলে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গৌরবময় জাতিসত্ত্বা ধারণ করে রঙিন পোশাকে সুর-ছন্দ আর তালে তালে শুক্রবার (১৯শে এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরকে বরণ করলেন সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ দিন সরকারি ছুটির থাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মানুষের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।সিঙ্গাপুরের সাম্বাওয়াং পার্কে দুপুর ২টায় শুরু হয়ে এই আয়োজন চলে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত। ছোট-বড় সকলের বৈশাখী সাজ দেখে মনে হচ্ছিল যেন বাংলাদেশের বৈশাখী উৎসব হচ্ছে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরের এই প্রবাসে। পুরুষরা একই রকমের পাঞ্জাবি আর মহিলারা একই নকশায় শাড়ি পরে যোগ দেয় এ অনুষ্ঠানে।একই নকশায় শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে প্রবাসিরা
প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব ও অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় , আড্ডায় মেতে ওঠে সবাই। বেলা বাড়ার সাথে সাথে হঠাৎ করেই আবহাওয়া পরিবর্তন হতে থাকে। যেন মনে হচ্ছিল সিঙ্গাপুরের আকাশে বৈশাখী দমকা হওয়া বইছে, বৃষ্টিস্লাত এ বর্ষবরন প্রবাসিদের মনে থাকবে অনেক দিন।বৃষ্টিতে কাকভেজা তারপরও থামছেনা উন্মাদনা
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির বাহারি রকমের দেশী খাবারের আয়োজন করা হয়। পান্তা ইলিশের সাথে রকমারি ভর্তা, বিকেলে চা চক্র, পিঠার আর সন্ধ্যায় বারবিকিউ’র পর বিরিয়ানি আর দই যেন খাবারের ষোল কলা পূর্ন।

খাবার পরিবেশনের সাথে চলছে আলাপচারিতাও
ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদেরও দেখা যায় আনন্দে দিশেহারা হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি, প্রযুক্তিকে দূরে ঠেলে স্বদেশী খেলায় মেতে উঠতে। প্রবাসে এতগুলো বাঙালি ছেলেমেয়ের আনন্দ উল্লাস যেন তাদের অভিভাবকদের নস্টালজিক করে তুলল, ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই চিরচেনা বাংলায়।
আড্ডামূখর সন্ধ্যা এক সময় সাঙ্গ হয়, সবাইকে ফিরতে হয় গদবাধা যান্ত্রিক জীবনে, সাথে নিয়ে যায় অমোঘ আনন্দের কিছু স্মৃতি যা এ প্রবাসীদের এ ধরনের আরও অনুষ্ঠান করতে উদ্ভুদ্ব করবে।

লেখক ও তার পরিবার
বৃষ্টিকে উপেক্ষাকরে অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে আয়োজকদের নিরন্তন চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মত। অসাংগঠনিক, অরাজনৈতিক এ মিলনমেলা প্রবাসে বসবাসরত বাঙ্গালিদের পারস্পারিক আন্তরিকতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে হবে সেই সাথে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে সক্ষম হবে বলে যাতে তারা প্রবাসে থেকে দেশের সংস্কৃতি ভুলে না যায় বলে মন্তব্য করেন আয়োজক কমিটির পক্ষে মিসবাহ আহমদ।

লেখক:
শফিক ইসলাম
ইঞ্জিনিয়ার, হেলথ, সেফটি এন্ড এনভারন্মেন্ট