সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে সমাজে যে সমস্ত কুসংস্কার প্রচলিত!

84

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ!

সূর্যগ্রহণ

চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়।

চন্দ্রগ্রহণ

পৃথিবী যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করে। পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।

আজ রাতে ১১ টার পরে চন্দ্রগ্রহণ, যা বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত। এরকম একটি হচ্ছে,

চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মা যদি কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তান কান কাটা বা ঠোঁট কাটা অবস্থায় জন্ম নেয়।

এমনকি এ সময় গর্ভবতী নারীদের ঘুম বা পানাহার থেকে বারণ করা হয়। ধারণা করা হয় এই সময়ে রান্না করা খাবারে বিষক্রিয়া হয়।

জাহেলি যুগেও এ ধরনের কিছু ধারণা ছিল। সেকালে মানুষ ধারণা করত যে চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হলে অচিরেই দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষ হবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীতে কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যুর বার্তাও বহন করে বলে তারা মনে করত। ইসলামী শরিয়াহ ও বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর কোনো মিল নেই।

চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত কিছু সহিহ হাদিস উল্লেখ করা হলঃ-

১। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইব্রাহীম (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, সেদিন সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগলো, ইব্রাহীম (রাঃ) এর মৃত্যুর কারণেই সুর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারো মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করবে।’ (সহিহ বুখারি : ১০৪৩)

চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহ তাআলার কুদরত হিসেবে অভিহিত করে অন্য হদিসে নবীজি (সা.) সাহাবিদের চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

২। শিহাব ইবনু আব্বাদ (রহঃ) … আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহন বা চন্দ্রগ্রহন হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। (সহিহ বুখারি: ৯৮৪)

৩। আমর ইবনু আওন (রহঃ) … আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, এ সময় সুর্যগ্রহণ শুরু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাঁদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা কেটে যাওয়া পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং দু’আ করতে থাকবে। (সহিহ বুখারি : ৯৮৩)

উপরোক্ত হাদিসগুলু থেকে এটাই বুঝা যায় যে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় স’লাত আদায় করা, দু’আ করা, জিক’র করাই সুন্নাহ। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।