ঢাকার অদূরেই রয়েছে সোহাগপল্লী রিসোর্ট

0
81

নাগরিক জীবনের সকল ব্যস্ততা দূরে ঠেলে দিয়ে যারা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবসর যাপন করতে চান অথচ সময়ের অভাবে দূরে কোথাও যাওয়া হয়ে উঠছে না, তাদের জন্য ঢাকার অদূরেই রয়েছে সোহাগপল্লী রিসোর্ট। এটি বাংলাদেশের অন্যতম পিকনিক স্পট ও রিসোর্টগুলোর মধ্যে একটি। অল্প সময়ে এবং ঢাকার কাছেই ঘুরে আসতে চাইলে গাজীপুরের চমৎকার গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠা এই রিসোর্ট আপনার জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।

সোহাগপল্লী রিসোর্ট
সোহাগপল্লী রিসোর্ট

কোলাহল ও দূষণ মুক্ত পরিবেশে গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালামপুর গ্রামে এই রিসোর্টটির অবস্থান। ১১ একর উঁচু-নিচু জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই সোহাগপল্লীতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল-ফল ও সবুজের সমারোহ তৈরি করেছে এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। মনোলোভা গ্রামীণ পরিবেশ আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার চমৎকার মেলবন্ধনে গড়ে উঠা এই রিসোর্টটি আপনার ছুটির দিনগুলোকে করে তুলবে প্রশান্তিময় ও আনন্দপূর্ণ।
সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর এর পিলার ও বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন শৈল্পিক কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বিশাল এক জলাশয়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সাঁকোটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। সারি সারি বৃক্ষের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সুবিশাল জলাশয়, কৃত্রিম ঝর্ণা, গরুর গাড়ি ও মিনি চিড়িয়াখানা। জলাশয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটির নাম রাখা হয়েছে মেজবান।সোহাগপল্লী রিসোর্ট

এখানে বাংলা, ভারতীয়, থাই ও চীনা খাবারসহ সব ধরণের খাবার পাবেন। সঙ্গ দিতে থাকছে লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে একটি লেক নির্মাণ করা হয়েছে এখানে।। যাতে বর্ষা বা শুষ্ক সবসময়ই পানি থাকে। আর এই লেকের পানিতে বিভিন্ন জাতের মাছের বিচরণ দেখা যায়। রয়েছে উন্নতমানের কয়েকটি কটেজ। চম্পা, লোটাস, রোজ, মালতী, পপি ও শাপলা নামে এসি ও নন-এসি কটেজগুলো নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। কটেজগুলো এমনভাবে নির্মিত, দেখলে মনে হয় যেন ইতালির রোম শহরের একটি সাজানো গ্রাম। কটেজগুলোর ঠিক সামনে দিয়ে বয়ে গেছে লেক। রয়েছে একটি সুইমিং পুল আর কনফারেন্সের জন্য একটি হলরুম। ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য। এই হলরুম বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও ভাড়া দেওয়া হয়।
এখানে রয়েছে উঁচু পাহাড়। যার নিচে এক পাশে রাক্ষসের হাঁ করা মুখম-ল, উপরে সুন্দরী ললনার কোলে জলভর্তি কলসি এবং পাহাড়ের সামনে দু-পাশে দুটি করে জিরাফ ও হরিণের প্রতিকৃতিসহ এমন অনেক আকর্ষণীয় প্রতিকৃতি রয়েছে। মাত্র ৫০ টাকা প্রবেশমূল্যে পুরো রিসোর্ট ঘুরে দেখতে পারবেন।

যোগাযোগ:
ওয়েবসাইট: www.shohagpalli.com
ইমেইল: info@shohagpalli.com
অনলাইন রিজার্ভেশন: www.shohagpalli.com/reserbation_form.html
ফোন: ৮৮০১৬১২-০৪৯৯০৩, ৮৮০২৯৩৫৪৯৮৩, ৮৮০২৯৩৫৪৯৮৪, ৮৮০১৭১২০৪৯৯০৩

যাওয়ার উপায়:
ঢাকা থেকে দুইভাবে যাওয়া যায় এখানে। জয়দেবপুর থেকে সফিপুর হয়ে কিংবা সাভার নবীনগর ইপিজেড হয়ে। আব্দুল্লাহপুর থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে করে যেতে পারেন আবার সাভার থেকে ধামরাইগামী বাসে করেও যেতে পারেন। তবে নিজস্ব পরিবহনে বা ভাড়া করা গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করাই সবচেয়ে ভালো। কেননা ফেরার পথে গাড়ি পেতে সমস্যা হতে পারে। নন্দন পার্ক সংলগ্ন গাজীপুর চান্দুরা চৌরাস্তা থেকে অনেকটা ভিতরে এই রিসোর্টটি অবস্থিত। চান্দুরা চৌরাস্তা থেকে এখানে যাওয়ার দিক নির্দেশনা পথেই দেয়া আছে। যাত্রীবাহী বাসে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রামোড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালামপুর গ্রামে গেলেই পেয়ে যাবেন সোহাগ পল্লী।