জীবনীমিডিয়া

স্মৃতিতে গাঁথা জাফর ইকবাল- চলচ্চিত্র অভিনেতা

অবুঝ হৃদয়’ আর ‘বদনাম’ এ ভরা জীবন তার। কিন্তু ২৬ বছর পরও তিনি চিরসবুজ তার স্টাইলিশ নায়ক সত্ত্বায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন অসাধারণ গিটারিস্ট এবং গায়ক। ‘হয় যদি বদনাম হোক আরো/ আমি তো এখন আর নই কারো’ কিংবা ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’। তিনি জাফর ইকবাল। ‘ফকির মজনু শাহ’।

ববিতা ও জাফর ইকবাল

মুক্তিযুদ্ধের আগেই বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখা জাফর ইকবাল ছিলেন সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের সাড়া জাগানো নায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইলিশ নায়কদের মধ্যে অন্যতম তিনি। অংশ নিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। তবে কিছু অমিমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে তার মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা প্রসঙ্গে।

তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি ‘আপন পর’। নায়িকা ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী। তার জীবনের ভালোবাসা এবং দুঃখের নাম ববিতা। জাফর ইকবাল-ববিতা জুটি ৩০টির মত সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। দুজনের পর্দার বাইরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল স্বীকৃত। তাদের এক হতে না পাড়ার দুঃখ তিলে তিলে শেষ করেছে জাফর ইকবালকে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রায় ১৫০টি ছবি করেন প্রয়াত এ নায়ক। যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসাসফল।

সব ধরণের চরিত্রেই ছিল জাফর ইকবালের স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণ। তবে শহুরে রোমান্টিক ও রাগী হতাশাগ্রস্ত বিপথগামী তরুণের ভূমিকায় ছিলেন বেশি সাবলীল। ১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ ছবি তাকে প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। অভিনয়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত গান করতেন। ফলে বেশ কিছু ছবিতে গান করেছেন স্বকণ্ঠে। যেগুলো বিপুল শ্রোতাপ্রিয়তাও লাভ করেছিল। বড় ভাই বিখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজ আর বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ ফলে গান ছিল তার ধমনীতে।

সিনেমায় গাওয়া তার প্রথম গান ছিল ‘পিচ ঢালা পথ’। ১৯৮৪ সালে জাফর ইকবালের কণ্ঠে আনোয়ার পারভেজের সুরে রাজ্জাক অভিনীত ‘বদনাম’ ছবিতে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরো’ গানটি একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ভালো গিটার বাজাতেন বলে সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে অনেক ছবির আবহসংগীতও তৈরি করিয়েছিলেন।

পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জনক ছিলেন জাফর ইকবাল। তাঁর স্ত্রীর নাম সনিয়া। পারিবারকি অশান্তি ভুলতে একসময় মদ আর নিয়ন্ত্রণহীন জীবন যাপনে জড়িয়ে পড়েন।ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। দেখা দেয় হার্টের সমস্যা। নষ্ট হয়ে যায় দুটি কিডনিই।

উল্লেখযোগ্য অভিনীত জনপ্রিয় গান-

  • কত যে তোমাকে বেসেছি ভো
  • আমার বাবার মুখে (নয়নের আলো)
  • সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী
  • এক হৃদয়হীনার কাছে
  • যারে যাবি যদি যা (অাপন পর)
  • ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা
  • ওগো বিদেশিনী তোমার চেরী ফুল দাও
  • আমার বুকের মধ্যখানে (নয়নের আলো)
  • আমার সারা দেহ (নয়নের আলো)
  • তুমি আমার জীবন (অবুঝ হৃদয় )
  • চাঁদের সাথে আমি দেবনা তোমার তুলনা (আশীর্বাদ)
  • শোনো সোমা একটু দাঁড়াও – প্রতিরোধ
  • এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া – দোষী
  • হয়তোবা কিছু লোক (মিস লংকা)
  • প্রেমের আগুনে জ্বলে পুড়ে
  • যে ভাবে বাঁচি, বেঁচে তো আছি
  • নাম লেখা ঐ নোট

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া জাফর ইকবাল নানা রোগে আক্রান্ত ১৯৯২ সালের ২৭ এপ্রিল মাত্র ৪১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

Facebook Comments
Tags

Related Articles

Back to top button
Close
Close