২৫০০ খ্রিস্টাব্দে মহাকাশে গাজীপুরের বুদ্ধিমান স্পেসশিপ রোবট- মেঘনাদ সাহা!!

0
212

২৫০০ খ্রিস্টাব্দে গাজীপুরের বিখ্যাত তাজউদ্দিন মহাকাশ কেন্দ্র হতে গাজীপুরে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা’র নামে কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন অত্যাধুনিক রোবট স্পেসশিপ যাবে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিতে। সেখানে এলিয়েনদের সাথে আগেই পরিচয় ছিলো গাজীপুরবাসীর!!! গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতারা বুদ্ধিমান স্পেসশিপ রোবটকে বলল- কীভাবে মিল্কওয়ে সহ সকল গ্যালাক্সির বুদ্ধিমান প্রজাতিকে যুদ্ধের মতো মানব বিধ্বংসী কাজগুলো থেকে বাইরে রাখা যায়, মারণাস্ত্রগুলি কীভাবে মানব ধ্বংসের আগেই ধ্বংস করা যায় এবং খুনি যাতে খুন করার আগেই মারা যায় সে কৌশল নির্ধারণ করতে যেতে হবে গ্যালাক্সি- এন্ড্রোমিডার এলিয়েন কাছে, তাদের অগ্রসর সভ্যতায়। গাজীপুরের ইতিহাসবিদরা বলল- টাইমট্রাভেলের মাধ্যমে আমাদের এই ব-দ্বীপের কিছু ইতিহাস উদ্ধার করতে হবে।

যাইহোক পরিকল্পণা মতো, ঠিক ১ জানুয়ারী ২৫০০খ্রিস্টাব্দ বিকাল তিনটায় গাজীপুরের তাজউদ্দিন মহাকাশ কেন্দ্র হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্পেসশিপ রোবট মেঘনাদ সাহা সবাইকে টাটা জানিয়ে নিউট্রিনো’র গতিতে ছুটে চলল মহাকাশের দিকে, এন্ড্রোমিডার উদ্দেশ্যে…।

প্রথম সেকেন্ডেই মেঘনাদ সাহা পৃথিবীকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে আলোর গতির কাছাকাছি বেগে চলে গেল !!! তার পরের কয়েক সেকেন্ডগুলিতে তার গতি আলোর গতির চেয়ে কয়েক হাজারগুণ বৃদ্ধিপেল…!!! স্পেসশিপটি তখন অতীত ভ্রমণ করতে লাগল। সে চলে গেল সেই ৩৬০ কোটি বছর পূর্বে এক নতুন পৃথিবীর; নতুন প্রাণের প্রথম স্পন্দনগুলির মুহূর্তে ! তারপর তার গতি আস্তে আস্তে কমাতে শুরু করলো এবং ফিরে আসতে লাগল দক্ষিণ ও উত্তর ভারতের ডাইনোসরদের জুরাসিক পার্কে।

তারপর স্পেসশিপটি তার গতি আরো একটু কমিয়ে ১ কোটি ৭০ লক্ষ বছর আগেরকার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে লাগলো। তখন আসামের এই উপসাগরে জেগে উঠা আমাদের এই গাজীপুর নামক ব-দ্বীপের উপর তার হাইস্পিট ক্যামেরা নজর রাখতে শুরু করলো। সে দেখতে পেল পশ্চিমের বাকুরা, উত্তরের আসাম ও দক্ষিণের আরব, আফ্রিকানসহ বিভিন্ন আদিবাসী, দ্রাবির, আর্য, অস্ট্রিক, অভিবাসীরা এই গাজীপুর তথা বাংলাদেশে স্থায়ী হচ্ছে…। এই ইতিহাসটুকু স্পেসশিপের অবিশ্বাস্য গতির মাঝে সুপার শ্লোমোশনেই কেবল ধরা দিচ্ছিলো। – কেননা আলোর বেগের চেয়ে হাজারগুণ বেশি গতি তার উদ্দেশ্যকে বার বার স্থির করে দিচ্ছিলো। তারপরেও সে সফল! তারপর মেঘনাধ সাহা স্পেসশিপটি উড়াল দিলো – এন্ড্রোমিডার দিকে…।

এন্ড্রেমিডার এলিয়েনদের সাথে কথা হলো বুদ্ধিমান মেঘনাদ সাহা রোবটের। এলিয়েনরা বলল, তারা হাজার বছর আগেই তাদের সম্পদের বৈষম্য, জাতি, ধর্মের ও রাষ্ট্রের কাঁটাতারকে বাদ দিয়ে এক “মানবতাবাদি বুদ্ধিমান মানব রাষ্ট্রের” ভিত্তি গড়েছে। সেখানে যুদ্ধ, মারণাস্ত্র কিংবা জনগণের কোন অপরাধ জন্ম হয়না। রোবটটি বলল- এ কথা তো আমি যন্ত্রমানবও বুঝি। কিন্তু পৃথিবীর রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ কেন যে বুঝেনা- আমি জানিনা। আরো অনেক কথা হলো এলিয়েনদের সাথে, গাজীপুরবাসীর সাথে লাইভেও কথা হলো।

অতপর: মেঘনাদ সাহা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্পেসশিপটি পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। ঘটনা মাত্র কয়েক ঘন্টার অথচ গাজীপুরে এসে দেখে এখানে কোন মানুষ জীবিত নেই!!! পৃথিবীতে কোন মানুষও জীবিত নেই! হাজার খানেক বছর আগে এই পৃথিবী থেকে মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে!!!

বি:দ্র: গল্পটি ক্ষুদে সায়েন্স ফিকশন। বাস্তবের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। ট্রাইম ট্রাভেল করাও সম্ভব নয়। গল্পটির অনুপ্রেরণা পেয়েছি- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে।

লেখক – জাকির হোসেন