পৃথিবীর প্রথম টাংস্টেন তারের বৈদ্যুতিক বাল্ব

85

পৃথিবীর প্রথম টাংস্টেন তারের বৈদ্যুতিক বাল্ব

টমাস_আলভা_এডিসন যখন প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বটি
আবিষ্কার করেন তখন তার ল্যাবে ভীষণ ভিড়-ভাট্টা, বন্ধু-বান্ধবে গিজগিজ করছে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরাও হাজির হলেন। বাল্বটি যখন প্রথমবারের মতো জ্বলে উঠলো, তখন সবাই আনন্দে আত্মহারা- সবাই হই হই করে উঠলো ।

তখন এডিসন সাবধানে বাল্বটি খুলে তার চাকরের হাতে দিয়ে বললেন, ‘সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসো।’ সাবধানে বলার কারণেই কিনা এডিসনের বেকুব চাকর পৃথিবীর প্রথম বাল্বটি তৎক্ষণাৎ হাত থেকে ফেলে দিয়ে ভেঙে চুরমার করে দিলেন। এমন ঘটনার পর আশেপাশের সবাই হায় হায় করে উঠলো। হতভম্ব হয়ে পড়লেন চাকরটি। তবে এডিসন তাকে কিছু বললেন না।

টাংস্টেন তারের পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্ব

কিছুদিন পর এডিসন দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি বাল্ব তৈরি করলেন । এটিই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক বাল্ব। এবারও তার ল্যাবে ভিড় জমলো ঠিক আগের মতোই। ওইসব সাংবাদিক ও বন্ধু-বান্ধব সেদিনও ঐ স্থানে হাজির হলেন।

টমাস আলভা এডিসনের দ্বিতীয় বাল্বটিও জ্বলে উঠলো। সবাই আনন্দে আবারও হই হই করে উঠলো। এবারও এডিসন বাল্বটি সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসার জন্য তার ওই চাকরকে ডাকলেন । এডিসনের কথা শুনে সবাই আঁতকে উঠলো, ‘কী করছেন! কী করছেন! ওই গাধাটা আবার বাল্বটা ভাঙবে। আপনি নিজ হাতে রেখে আসুন অথবা আমাদের কারো হাতে দিন।

কিন্তু এডিসন স্মিত হেসে বললেন- ‘ও যদি এবারও বাল্বটা ভাঙে সেটা আমি আবার তৈরি করতে পারবো। কারণ এর মেকানিজমটা আমার মাথায় রয়ে গেছে কিন্তু প্রথম বাল্বটি ভাঙ্গার পর আমার চাকরের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যে চুরমার হয়েছে সেটা জোড়া লাগাতে বাল্বটা এবারও তার হাতেই দিতে হবে।’ চাকরটি অবশ্য পৃথিবীর দ্বিতীয় বাল্বটি না ভেঙ্গে সঠিক জায়গায় রেখে আসতে সমর্থ হন।

ঘটনাটিতে একটি বিষয় প্রমাণ হয় যে, কাউকে ছোট করে দেখতে নাই। আত্মবিশ্বাস মানুষের একটি বড় গুণ। তাছাড়া ঠাণ্ডা মাথায় সবকিছুকে ম্যানেজ করা মানুষের একটি বড় বৈশিষ্ট্য।

সংগৃহীতঃ
#মজার_ঘটনা