প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছেন! খাবারে অনীহা নেই তো?

88

মায়ের অতি আদরের ছেলেটি প্রবাসে দিন শেষে ক্যান্টিনে যেয়ে খাবার দোকান গুলোতে খাবার দেখছে কিন্তু খাবার এর অবস্থা দেখেই রুচি চলে যাচ্ছে। খাবার কিনে মুখে দিতেই চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে, বুকের ভিতরে দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। মায়ের হাতের মুখরোচক খাবার খেতে যেয়েও ভালো লাগে না আর আজ খাবার মোটেও স্বাধের না কিন্তু তাও গিলতে হচ্ছে।

পাশে রাখা পানির গ্লাস ঠিক মতো ধোওয়া হয়েছে কিনা তা দেখে বোনকে শাসানো তাই প্রতিবেলা স্বযত্নে রাখা পানির গ্লাসে ভাত খেতে খেতে চুমুক আর আজ আজ গলায় ভাত আটকে গেলেও কেউ জিজ্ঞেস করবে কিনা সন্দেহ। গ্লাস তো বাদ পানির কি অবস্থা তা দেখার জো নেই (যদি পানি আর গ্লাস দেওয়া হয় )। দিন শেষে বাসায় ফেরা বাবা খেতে বসে ছেলের খাওয়ার খোঁজ ঠাঁই করে নিয়েছে অভুক্ত রজনী। তাই জোর করে হলেও খেতে হবে …. চোখের জল কখন গড়িয়ে পড়ছে খাবার থালাতে তা দেখারই বা কে আছে।

কাজ না যত কষ্টের, কাজ নিয়ে যত ভাবনা প্রবাসে অনেকের কাছে তার চেয়ে বড় ভাবনা কি খেতে হবে সে সেটা নিয়ে। আপনি যদি মায়ের অতি আদরের ছেলে হয়ে থাকেন যার খাওয়া নিয়ে প্রতিবেলা মা’কে চিন্তা রতে হয়। আপনি যদি মুখরোচক খাবার ভিন্ন অন্য খাবার খেতে না পারেন, আপনি যদি রান্না করতে না পারেন তাহলে প্রবাস জীবন আপনার জন্য নয়। কারণ দিনের পর দিন এগুলোর সাথে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হবে, খেয়ে কাজে যেতে হবে মুখ বন্ধ করে, নালিশ করারও কোনো উপায় নাই।
বি:দ্র: প্রবাসে অনেক ভালো এবং মুখরোচক খাবার অবশ্যই আছে কিন্তু সঞ্চয়ের কথা চিন্তা করে প্রত্যহ তা উদরপূর্তি অসম্ভব।