শ্রীপুর উপজেলা

শ্রীপুর উপজেলার পটভূমি ইতিহাস

ভৌগোলিক অবস্থান

শ্রীপুর উপজেলা গাজীপুর জেলার সর্বোত্তরে অবস্থিত। উত্তরে গফরগাঁও ও ভালুকা উপজেলা পুর্বে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলা,দক্ষিনে গাজীপুর সদর ও পশ্চিমে কালিয়াকৈর ও টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলা অবস্থিত। ২৩.৪৩ উত্তর অক্ষাংশ ৯০.২৪পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অবস্থিত। আয়তন ১৭৮.১৯ বর্গমাইল।

ভৌগলিক পরিচিতি

উত্তরে ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলা, দক্ষিণে গাজীপুর সদর উপজেলা, পূর্বে কাপাসিয়া উপজেলা, পশ্চিমে কালিয়াকৈর ও সখীপুর উপজেলা।

উপজেলার ইতিহাসঃ

১৮৮০ সালে কাপাসিয়া উপজেলা স্থাপন করার পর শ্রীপুর অঞ্চল কাপাসিয়ার অন্তর্ভূক্ত হয় । ১৯১৪ সালের মে মাসে সুষ্ঠু শাসন কায়েমের জন্য শ্রীপুরে একটি ছোট পুলিশ ইনভেষ্টিগেশন স্টেশন খোলা হয়। ১৯৩৩ সালে ৭ই অক্টোবর এখানে একটি পুর্নাংগ থানা স্থাপন করা হয়। ১৯৮৩ সালে এ উপজেলার সৃষ্টি হয়। উপজেলার নামকরণ

শ্রীপুরের ঐতিহাসিক পটভূমি যুগে বিভিন্ন রাজবংশের শাসনের ক্রমঃ বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যে অলংকৃত সম্ভবতঃ মহারাজাধিরাজ শশাংকের রাজত্বকালে ইহা প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইতিহাস বেত্তাগণ অনুমান করেন যে, আনই ভৌমিক বলিয়া প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের সমস্ত রাজা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ভালুকা-গফরগাঁও ও শ্রীপুরের উত্তারাঞ্চলের রাজা ছিলেন। তাহার রাজবাড়ি ছিল ফুলবাড়িয়া বানার নদীর তীরে। মহারাজা ধীরাজ শশাংকের পর বাংলাদেশে গোলাপ নামে এক রাজা, বৌদ্ধ রাজত্বের স্থাপন করেন। ঐ সময় হতে সম্ভবতঃ এই অঞ্চলে বৌদ্ধ রাজত্বের সৃষ্টি হয়। ১০৫০ সালে বিখ্যাত সুফী সাধক শাহ সুলতান কমরুদ্দিন রুমী যখন নেত্রকোনায় মদনপুরে আসেন, প্রাগ জ্যেতিষপুর রাজ্যের সমস্ত রাজা মদন গারোর রাজ্যে আস্তানা স্থাপন করেন। এর প্রায় অর্ধ শতাব্দীর পর ভাওয়ালের সুফী সাধক শাহ কারফরমা শাহ ইসলামের মহান বাণী নিয়ে ভাওয়ালে আসেন। তখনও শ্রীপুর এলাকা দুইটি ছোট বৌদ্ধ রাজত্বে বিভক্ত ছিল। একজন ইন্দ্রপাল রাজধানী ইন্দ্রপুরে যা আধুনিক মাওনার নিকট অবস্থিত । অপরজন ভবপাল । তার রাজধানী ছিল রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাইশুখানিয়া গ্রামে। সম্ভবত: অষ্টম শতাব্দীতে রাজা ইন্দ্রপাল ইন্দ্রপুর ও তার আশেপাশের এলাকা নিয়ে স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন। এটা আদিত্যপালের দীঘি নামে পরিচিত। বর্তমান প্রচলিত নাম ওয়াদ্দা দীঘি। তৎপুত্র রাজা শ্রীপালের নাম অনুসারে শ্রীপুর মৌজার নামকরণ করা হয়। মৌজার নাম অনুসরণ করে শ্রীপুর উপজেলার নামকরণ করা হয়। অভিধানিক অর্থে শ্রী-অর্থ সৌর্ন্দয্য,পুর -অর্থ নগরী অর্থাৎ সৌন্দর্য্যের নগরী।

১৮৮০ সালে কাপাসিয়া উপজেলা স্থাপন করার পর শ্রীপুর অঞ্চল কাপাসিয়ার অন্তর্ভূক্ত হয় । ১৯১৪ সালের মে মাসে সুষ্ঠু শাসন কায়েমের জন্য শ্রীপুরে একটি ছোট পুলিশ ইনভেষ্টিগেশন স্টেশন খোলা হয়। ১৯৩৩ সালে ৭ই অক্টোবর এখানে একটি পুর্নাংগ থানা স্থাপন করা হয়। ১৯৮৩ সালে উপজেলার সৃষ্টি হয়।

জনসংখ্যার উপাত্ত

আয়তন – ৪৬৫.২৫ বর্গ কিলোমিটার জনসংখ্যা – ৪৯২৭৯২জন, ঘনত্ব – ১০৬০ জন ( প্রতি বর্গ কি: মি:) নির্বাচনী এলাকা – ১৯৬ গাজীপুর-৩, ইউনিয়ন – ০৮টি, মৌজা – ৭৯টি, সরকারী হাসপাতাল – ০১টি, স্বাস্থ্য কেন্দ্র /ক্লিনিক – ০৫টি, পোস্ট অফিস – ০৯টি, নদ-নদী – সুতিয়া,শীতলক্ষ্যা ও মাটিকাটা । হাট-বাজার -৩৮টি, ব্যাংক (ক) বাণিজ্যিক-০৯টি (খ) গ্রামীণ-০৯টি

শিক্ষা

১) পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ২) শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ৩)মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ৪) মাওনা জে এম সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয় ৫) কেওয়া তমির উদ্দিন আলীম মাদরাসা ৬)কাউরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয় ৭) শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ৮) বরমী ডিগ্রী কলেজ ৯)দারুল উলুম কওমী মাদরাসা 10) গাজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় 11) বরমি বাজার বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ১২) বরমি জামিয়া আনওারিয়া মাদ্রাসা, ১৩) ভাংনাহাটি কামিল মাদ্রাসা, ১৪) ধলাদিয়া কলেজ, রাজাবাড়ী

অর্থনীতি

উল্লে­খযোগ্য স্থান বা স্থাপনা

১) কর্ণপুর বড়দীঘি, ২) ওয়াদ্দাদীঘি, ৩) কেওয়াবাজার বটগাছ ৪) শীতলক্ষ্যা নদী ৫) বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ৬) বরমী বাজার ৭) শ্রীমঙ্গল দীঘি। ৮) তুলা উন্নয়ন বোর্ড

বহিঃ সংযোগ
শ্রীপুর উপজেলার অবস্থান উত্তরঅক্ষাংশের ২২°২৯’ এবং ২৩°৪২’ এর মধ্যে ৪৬°৯৬’ এবং ৯১°০৫’ দ্রাঘিমাংশেরমধ্যে। এ উপজেলার উত্তরে ভালুকাও গফরগাঁওউপজেলা, দক্ষিণাংশেগাজীপুর সদরউপজেলা, পশ্চিমে সখিপুরউপজেলা, পূর্বে গফরগাঁওও গাজীপুর উপজেলা।

ইউনিয়ন সমূহ

১। বরমী
২। গাজীপুর
৩। গোসিংগা
৪। মাওনা
৫। কাওরাইদ
৬। প্রহলাদপুর
৭। রাজাবাড়ী
৮। তেলিহাটী

ভাষা সংষ্কৃতি
শ্রীপুর উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে দক্ষিনে গাজীপুর সদর উপজেলা,পশ্চিমে  সখিপুর,উত্তরে ভালুকা উপজেলা,পূর্বে গফরগাঁও, ঢাকা বিভাগ বিভাগের অন্যান্য উপজেলাসমূহ। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছে। উপজেলা উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে সন্নিহিত ময়মনসিংহ,টাঙ্গাইলও ঢাকার ভাষার অনেকটা সাযুজ্য রয়েছে। শ্রতলক্ষা নদীর গতিপ্রকৃতি পাদদেশে শ্রীপুর, মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই এলাকার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে শ্রীপুর সভ্যতা বহুপ্রাচীন। এই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতার বাহক হিসেবে দেদীপ্যমান। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শ্রীপুর অবদানও অনস্বীকার্য।  প্রমুখ শিল্প সাহিত্য ভুবনবিখ্যাত সংগীতজ্ঞদের স্মৃতি বিজড়িত শ্রীপুর।

যেসব সরকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা শ্রীপুর কাজ করছে সেগুলো হলোঃ

* উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী, শ্রীপুর।
* সরকারী গণ গ্রন্থাগার, শ্রীপুর।

দর্শণীয় স্থান ও কিভাবে যেতে হয়
১০৫০ সালে রাজা ইন্দ্রপালের প্রোপৌত্র কর্ণপাল একটি দীঘি খনন করেন যা এখন কর্ণপুর বড়দীঘি নামে পরিচিত। রাজা ইন্দ্রপালের পুত্র আদিত্যপাল ১৫ একর জমির উপর একটি পুকুর খনন করেন। পুকুরটির বর্তমান নাম ওয়াদ্দার দীঘি। এছাড়া ও রয়েছে রাজাবাড়ি ইউনিয়নে নক্ষত্র বাড়ি,

মাওনা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, কাওরাইদ ইউনিয়ন কবি অতুল প্রসাদ সেনের সমাধী, বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজার, শ্রীপুর পৌরসভায় কেওয়া বাজার বট গাছ, শীতলক্ষ্যা নদী।

১। বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কঃ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ অথবা শ্রীপুরগামী বাসে করে বাঘের বাজার নেমে ০৩ কিঃ মিঃ রিক্সায় অথবা পায়ে হেটে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে যাওয়া যায়।
২। নক্ষত্রবাড়িঃ শ্রীপুর উপজেলা থেকে ১৫ কিঃ মিঃ দূরে নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট সেন্টার।

এক নজরে শ্রীপুর উপজেলা

সাধারণ তথ্যাদি

১। মোট আয়তন- ৪৬৫.২৫  বর্গ কিলোমিটার
২। মোট লোক সংখ্যা- ৪,৯২,৭৯২ জন, পুরুষ ২,৫১,২৯৮ জন এবং মহিলা ২,৪১,৪৯৪ জন
৩। পৌরসভা- ০১টি
৪। ইউনিয়ন- ০৮টি
৫। মৌজা- ৭৯টি
৬। গ্রাম- ১৮৬টি
৭। প্রতি বর্গ কি.মি. লোক সংখ্যা ঘনত্ব- প্রায় ১,০৬০ জন
৮। ডাকবাংলো- ০১টি

কৃষি বিভাগ

১। মোট জমির পরিমাণ- ১১৪১৮১ একর ৪৬,২২৭ হেক্টর
ক) মোট কৃষি জমি-৩১৪৬৭ হেক্টর
খ) অকৃষি জমি- ১৪৭৬০ হেক্টর
২। খাস জমি- ১৭৯৭.৪৭ একর
৩। বন ভূমি- ৩০০১০ একর
৪। ভি.পি জমি- ১৭৩৩.৫৭ একর
৫। তহশীল অফিস ০৭টি

শিক্ষা সংক্রান্ত

১। কলেজ ০৮টি
২। মহিলা কলেজ ০১টি
৩। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪০টি
৪। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০৩টি
৫। মাদরাসা ৩৬টি
৬। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৫টি
৭। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫২টি
৮। শিক্ষার হার ৩০.৩%
স্বাস্থ্য বিভাগ

১। হাসপাতাল ০১টি
২। পরিবর কল্যাণ কেন্দ্র ০৫টি
৩। পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ০৪টি

খাদ্য বিভাগ

১। খাদ্য গুদাম ০৩টি
২। বছরে খাদ্য চাহিদা ৫৩৬২৪ মেঃ টন
৩। খাদ্য উৎপাদন ৭০৭৫০ মেঃ টন
৪। খাদ্য উৎবৃত্ত ১০০৫১ মেঃ টন

অবকাঠামো

১। পাকা রাস্তা ১৫০ কিলোমিটার
২। আধাপাকা রাস্তা ১২ কিলোমিটার
৩। কাঁচা রাস্তা ৮৮০ কিলোমিটার

শিল্প সংক্রান্ত

১। মিল শিল্প কারখানা ১৪২৬টি

পুকুর সংক্রান্ত

১। নদী ০৫টি
২। খাল ০৪টি
৩। খাস পকুর ২১০টি
৪। বিল ১৯৫টি

নূলকূপ সংক্রান্ত

১। গভীর নূলকূপ ৩৯২টি
২। অগভীর নলকূপ ১৫৯৫টি
৩। পাওয়ার পাম্প ২২৭টি
৪। হস্তচালিত নলকূপ ১২৬৫২টি

হাটবাজার সংক্রান্ত

১। মোট হাট-বাজার ২৫টি

পোল্ট্রি ফার্ম

১। মোট সচল ফার্মের সংখ্যা ১১০০টি
২। ডিম উৎপাদন (দৈনিক গড়ে) তিন লক্ষ (প্রায়)।

Facebook Comments

৪১ Comments

  1. Hi there I am so delighted I found your website, I really found you by error, while I was searching on Aol for something else, Nonetheless I am here now and would just like
    to say kudos for a incredible post and a all round interesting blog (I also love the theme/design), I don’t have time to read through it all at the
    moment but I have saved it and also added in your RSS feeds, so when I have time I will be back to read more, Please do keep up the excellent work.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close
Close