নারায়নগন্জ জেলার উপকন্ঠে বন্দর জেলায় নয়নাভিরাম শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৯(নয়) একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মেরিন ডিজেল ট্রেনিং সেন্টার (MDTC) যা পরবর্তিতে “বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজী” হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে (এর পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশী ছিল তিনি ছিলেন মেরিন ডিজেল আর্টিফিসিয়ার কোর্সের ২য় বর্ষের ছাত্র এবং তৎকালিন ছাএ ইউনিয়নের ভিপি জনাব সালাউদ্দিন ভাই,পরবর্তিতে এ কাহিনী লিখার ইচ্চা রাখি)

বহু সফল ও মহারথী তৈরীর কারখানা এই “বি.আই. এম. টি” কালের বিবর্তনে এর কোর্স বা প্রোগাম এবং কার্যপ্রণালীর পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে ঠিক তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে এর সুনাম বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বে।
এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালে “মেরিন ডিজেল ট্রেনিং সেন্টার “নামে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল দেশেই প্রশিক্ষন দিয়ে দক্ষ কারিগর তৈরী করা, যাহারা দেশের মেরিন কারিগরী চাহিদা পুরনে সহায়ক হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কোর্স গুলো ছিল ৩( তিন) মাস মেয়াদী এবং মেরিন ডিজেল আর্টিফিসার কোর্স নামে দুই বছরের কারিকুলাম। পর্যায়ক্রমে শীপ বিল্ডিং কোর্স, ড্রাফটসম্যান শীপ কোর্স এবং ওয়েলডিং কোর্স চালু করা হয় এবং এদের কারিকুলামও দুই বছর মেয়াদী করা হয়।
এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রগন আজ দেশীয় জাহাজের চীফ ইন্জিনিয়ার, শীপ ইয়াূড উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা এমন কি বৈদেশিক জাহাজেরও চীফ ইন্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত এবং দেশীয় পাওয়ার প্লান্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা হিসাবে সফলতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে। বলতে গেলে দেশীয় পাওয়ার প্লান্ট গুলু চলে তাদের কারিগরি সহায়তায়। কালের বিবর্তনে এই প্রতিষ্ঠানের সুদক্ষ এবং প্রশিক্ষিত ছাত্রগন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে থাকলো এবং তৎকালীন ডিজেল আর্টিফিসিয়ার কোর্সের ছাত্রগন উপলব্ধি করলো MDTC এর উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান ছাত্রদের, যাদের থাকবে ইন্জিনিয়ারিং ডিগ্রী।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে অনুমোদিত করা হয় তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইন্জিনিয়ারিং কোর্স এবং MDTC ” বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি”(BIMT) হিসাবে অনুমোদন লাভ করে। অনুমোদন প্রাপ্ত ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইন্জিনিয়ারিং কোর্সের সিট সংখ্যা করা হয় ৩০ টি। প্রথম বর্ষে সরাসরি ভর্তি করা হয় (সাড়া বাংলাদেশ থেকে) ২০ জন এবং ২য় বর্ষে ১০ জন নেয়া হয় মেধার ভিত্তিতে মেরিন ডিজেল আর্টিফিসিয়ার কোর্স থেকে।

বি আই এম টির ছাত্রদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি অনেক গভীরে প্রোথিত। সত্যি কথা বলতে কি “সুন্দর পরিবেশে সুন্দর মনের মানুষের সাথে বসবাস করলে মানুষের মন সুন্দরই হয়, সে যে পরিবার থেকে আসুক না কেন। (যদি না তার ফ্যামিলি খুবই নিকৃষ্ট হয়” ) প্রকৃতপক্ষে বি আই এম টি থেকে পাশ করা ৯৯.৯৯% প্রাক্তন ছাত্রই সুন্দর মনের অধিকারী। তারা পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে এবং সহযোগিতা করতে চেষ্ঠার ত্টি করে না। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা এবং বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেশে এবং বিদেশে অন্য বাংগালীদের জন্য অনন্য উদাহরন।

সিংগাপুরে অবস্হানরত বেশ কিছু উদার মনোভাবাপন্ন বি, আই, এম, টি-র প্রাক্তন ছাত্র একত্রিত হয়ে বি আই এম টির আপামর সকল ছাত্রদেরকে একই ছাতার নীচে সংঘবদ্ধ করার কথা বিবেচনা করে একটি সাধারন প্লাটফর্ম সর্বজন স্বীকৃত ও গ্রহন যোগ্য মুল সংগঠন ” বি আই এম টি এলামনাই এসোসিয়েশন ” প্রতিষ্ঠা করেন। এর অগ্রযাত্রার অংশীদার বি. আই. এম. টির সকল কোর্সের প্রাক্তন ছাত্রগন। বি আই এম টির সকল প্রাক্তন ছাত্র সেই ১৯৫৮ সালে যারা সংক্ষিপ্ত কোর্স করেছেন তারাও এই এসোসিয়েশনের সদস্য। এদের হিসেবে বি আই এম টি এলামনাই এসোসিয়েশনের লাইফ মেম্বার সংখ্যা ৩৫০। যারা এর কার্যক্রমে উতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং এর ঊন্য়য়নে সহযোগিতা করে।

পৃথিবীর বহু দেশে বি আই এম টির প্রাক্তন ছাত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, BIMT এর অনেক প্রাক্তন ছাত্র আজ প্রতিষ্ঠিত এবং বসবাস করছে সিংগাপুরে, মধ্যপ্রাচ্যে অথবা ইউরুপের বিভিন্ন দেশে। তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে নিজেকে বি আই এম টি – য়ান হিসাবে পরিচয় দিতে এবং সকলকে সমভাবে সহযোগিতা করতে। বি. আই. এম. টির ভালো মনের প্রাক্তন ছাত্রদের কেউই কোর্স ভিত্তিক পরিচয়ে পরিচিত হতে চায় না তারা পরিচিত হতে চায় মুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি আই এম টির নামে।

যে কোন এলামনাই এসোসিয়েশন মূল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে হয়ে থাকে কারন তারা সব ছাত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। যেমন, অক্সফোর্ড এলামনাই / হারভার্ড এলামনাই /ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই / নিউক্যাসটল এলামনাই। /এন টি ইউ এলামনাই, আরো অনেক অনেক।

আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত হই যখন দেখি আমাদের প্রাক্তন ছাত্রগন এখনো বি. আই. এম. টির নাম বক্ষে ধারন করে আছে ও বাহক হিসাবে কাজ করছে। আশা করি বি আই এম টি এলামনাই এসোসিয়েশন একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হবে বি. আই. এম. টির সব প্রাক্তন ছাত্রদের যারা সেই ১৯৫৮ সাল থেকে প্রতিনিয়ত বি আই এম টির শিক্ষার আলোতে নিজেদের উজ্জীবিত করতে বি আই এম টির শিক্ষায় শিক্ষিত হইছেন।

বি আই এম টি এলামনাই কাজ করে যাচ্ছে সকলকে একতাবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

বি আই এম টির ছাত্রদের পর্যায়ক্রমিক সফলতার কারনেই মেরিন ডিপ্লোমা ইন্জিনীয়ারিং কোর্স চার বছর মেয়াদে উন্নিত করা হয়েছে এবং সৃষ্টি করা হয়েছে বেশকিছু ডিপ্লোমা কোর্স যেমন শীপ বিল্ডিং ডিপ্লোমা অন্নতম এক সংষোজন। সরকার আরো কয়েকটি আই এম টি ( Institute of Marine Technolgy) চালু করেছে দেশের বিভিন্ন জেলায় যা বহির্বিশ্বের চাহিদা পূরন করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সহায়তা করবে।

আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি বি আই এম টির উন্নতি যেন প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকে এবং বি. আই. এম. টি এলামনাই এসোসিয়েশন (সিংগাপুর) বি. আই. এম. টির সকল ছাত্রদের মূল সংগঠন হিসাবে তার কার্যক্রম সঠিক ভাবে এবং ন্যায়নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করবে।

বি আই এম টির বহু প্রাক্তন ছাত্র সিংগাপুর, লন্ডন আমেরিকা গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করছে, তাদের অনেকেই আজ দেশে এবং বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত।

আশা করি বাংলাদেশ সরকার BIMT কে একদিন ইউনিভারসিটি হিসাবে উন্নিত করে বিশ্বমানের মেরিন ইন্জিনিয়ার তৈরী করবে বাংলাদেশেই এবং মেরিন শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে বি. আই. এম. টির বতূমান এবং ছাত্রদের প্রাক্তন জন্য।

বি আই এম টির শিক্ষক, বতূমান এবং প্রাক্তন ছাত্র সকলের শুভ কামনায়
মিসবাহ আহমেদ
এইচ. এস. ই মেনেজার।
এইচ এস ই প্রফেশনাল (সিংগাপুর)

Facebook Comments